বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ সুনামগঞ্জ- একাডেমিক ভবনের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষেই শুরু হতে পারে পাঠদান

বিশেষ প্রতিনিধি:
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ সুনামগঞ্জ’এর নয় তলা একাডেমিক ভবনের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী মাসের ৩ তারিখের মধ্যেই এই দরপত্র গ্রহণ করা হবে। প্রায় ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী জানান, ৪০ হাজার বর্গফুটের একাডেমিক ভবনটি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ, সুনামগঞ্জ’এর নির্ধরিত স্থানের (সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়ক মোড়) ১০০ ফুট সামনেই হবে।
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ সুনামগঞ্জ’এর সকল ভবনের দরপত্র একে একে আহ্বান করা হবে। যেহেতু আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই মেডিকেলে পাঠদান শুরু হবে। এজন্য একাডেমিক ভবনের কাজ আগে শুরু করা হচ্ছে। গত ২ মে এই ভবনের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। আগামী মাসের (জুন মাস) ৩ তারিখের মধ্যে এর দরপত্র গ্রহণ করা হবে। এই ভবনটি হবে ৪০ হাজার বর্গফুটের। একসঙ্গেই ভবনের নয় তলা পর্যন্ত কাজ শেষ করা হবে।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সুনামগঞ্জ’এর নতুন একাডেমিক ভবনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ সুনামগঞ্জের নতুন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলবে। শিক্ষার্থীদের আবাসিক ব্যবস্থা করা হবে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানের ডুংরিয়ার বাড়িতে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর’এ (সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের দিরাই সড়ক মোডে) ৩৫ একর জমির উপর শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সুনামগঞ্জ’এর ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম। ডিজিটাল সার্ভের কাজ শেষে সয়েল টেস্ট’এর কাজ করা হয়েছে।
মেডিকেল কলেজ এবং ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ১১ শ’ ৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় ২৫কোটি ২৮ লাখ টাকা। ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, মেডিকেল কলেজ ভবন, অডিটোরিয়াম, ছাত্রাবাস, ডক্টরস ডরমেটরি, ডক্টরস আবাসিক ভবন ইত্যাদি পূর্ত খাতে এবং বৈদ্যুতিক কাজে ব্যয় ৮৩৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা, প্রকল্পের কাজ চলাকালীন সময়ে অফিসারদের বেতন, কর্মচারীদের বেতন, বাড়ি ভাড়া, মেডিকেল ভাতা, যাতায়াত ভাতা, উৎসব ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, গবেষণা, কম্পিউটার সামগ্রী, আপ্যায়ন, মোটরযান, আসবাবপত্র ইত্যাদি খাতে ব্যয় এক’শ ৭৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ব্যয় নির্ধারণ হয়েছে ১১ শ’ ৭৮ কোটি ৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।
পরিকল্পনা মন্ত্রীর পক্ষে এই প্রকল্পে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালনকারী তরুণ শিল্পপতি শ্যামল রায় বললেন,‘পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই মেডিকেলে পাঠদান শুরু হোক বলে চাচ্ছেন। এজন্য সকল কাজই দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
গত ১০ ফেব্রুয়ারি এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নিযুক্ত হয়েছেন সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ।
প্রকল্প পরিচালক ডা. আশুতোষ দাশ শুক্রবার বিকালে বললেন,‘আগামী শিক্ষাবর্ষেই এই মেডিকেলে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়ও মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়কে এব্যাপারে অনুরোধপত্র দিয়েছেন। আমরা আশা করছি অনুমোদন পাওয়া যাবে। প্রথম বছর ৫০ জন শিক্ষার্থীর আসন থাকবে।’