বজ্রপাত আতঙ্কে ফসলের মাঠে শ্রমিক সংকট

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
হাওরে বজ্রপাত আতঙ্কে শ্রমিক শূন্য হয়ে পড়েছে ফসলের মাঠ। সম্প্রতি হাওরে আকস্মিক বজ্রপাতে প্রাণহাণির ঘটনায় শ্রমিকদের ফসলের মাঠে নেয়া যাচ্ছে না। পক্ষকাল ধরে প্রচন্ড বৈরী আবহাওয়া ও বজ্রপাতের কারণে বৈশাখ মাসের ২৬ দিন পেরিয়ে গেলেও হাওরের ২০ ভাগ ফসল এখনও মাঠে রয়েছে বলে হাওরপাড়ের কৃষকদের দাবি। পাহাড়ী ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি হওয়াতে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওরের স্লুইসগেটগুলো খুলে দেয়ার জন্য তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনকে তাগিদ দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন মঙ্গলবার বিকেলে হাওরপাড়ের ইউপি চেয়ারম্যান, কৃষক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিগণকে নিয়ে এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জরুরী সভা করেছেন।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জানান, হাওরে এখনও ২০ ভাগ ফসল রয়ে গেছে তাই আরো কিছুদিন পরে স্লুইসগেট ছাড়ার বিষয়ে মতামত দেন। সভায় উপস্থিত অনেকেই আবার স্লুইসগেট না ছেড়ে নৌকা চলাচলের সুবিধার্থে সুবিধাজনক অন্য কোন স্থান দিয়ে বাঁধ কাটার পরামর্শ দেন। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্ণেন্দু দেব বলেন, এক্ষুনি যদি স্লুইসগেট দিয়ে হাওরগুলোতে পানি প্রবেশ করানো হয় তাহলে একমাস সময় লাগবে হাওরে পানি প্রবেশ করতে এ সময়ের মধ্যে কৃষকরা তাদের অবশিষ্ট ধানগুলো কেটে নিতে সক্ষম হবে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা তাদের জমির ধান কেটে শুকাতে পারছেন না অন্যদিকে বজ্রপাত আতঙ্কে প্রাণ নাশের আশঙ্কায় শ্রমিকদেরকে ফসলের মাঠে নেয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার শনির হাওরে নূর হোসেন নামে এক কৃষকের প্রাণহানির ঘটনায় বুধবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলার বৃহৎ বোর ফসরী ধানের হাওর শনির হাওর পুরোটাই ছিল একেবারে ফাঁকা। একে তো হলো বৈরী আবহাওয়া আবার আকাশে ঘনঘন বজ্রপাতের বিকট শব্দ কখন জানি কি ঘটে যায়, এই ভয় ছিল সকলের মনে।
শনির হাওরপাড়ের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক ইউনূছ আলী বলেন, এ বছর ৫ হাল জমির মধ্যে আমার এখনও ১ হাল জমির ধান কাটার বাকী রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধানকাটা সম্ভর হচ্ছে না। আর যেগুলো কেটেছি তাও শুকানো যাচ্ছে না।
ধান কাটা শ্রমিক নূর আলম বলেন, বৈশাখ মাসের শুরুতে ভালভাবেই ধান কাটা শুরু করেছিলাম। কিন্তু গত ১০/১২ দিন ধরে হাওরে ধান কাটায় যাওয়া মাত্রই বৃষ্টি নেমে আসে তার সাথে বজ্রপাতের বিকট শব্দ। এ অবস্থায় আমাদের মজুরী না পেয়ে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্নেন্দু দেব বলেন, কৃষকদের দ্রুত ধান কাটতে বলেছি পাশাপাশি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরের ভিতরে কিভাবে পানি প্রবেশ করানো যায় কৃষক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছি। সম্প্রতি বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনায় হাওরপাড়ের মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন।