বজ্রপাত রোধে তাল বীজ বপন কর্মসূচী সফল হোক

বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য সরকার ব্যাপকভাবে তালগাছ রোপণ কর্মসূচী শুরু করেছেন। তালগাছ অনেক দীর্ঘ হয় বিধায় এগুলো বজ্রপাত নিরোধী ভূমিকা পালনে সক্ষম বিবেচনায় হাওরাঞ্চলে এই তাল গাছ রোপণ কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। গতকাল দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১০ মিনিটে ১০ হাজার তালের বীজ রোপণ করা হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। অপরাপর উপজেলায়ও তাল গাছের বীজ বণ্টন ও রোপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বজ্রপাত হলো বাংলাদেশের সবচাইতে বড় প্রাণঘাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রতিবছর বজ্রপাতে প্রচুর লোকের প্রাণ হানি ঘটে থাকে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে এই দুর্যোগের প্রকোপ খুব বেশি। হাওরের মানুষকে ফসল ফলানো, মাছ ধরা, স্থানান্তরে গমনাগমন; এমন অপরিহার্য কাজে খোলা স্থানে যেতেই হয়। তারা ইচ্ছা করলেই ঘরে বসে থাকতে পারবে না। ঘরে বসে থাকলে তাদের জীবিকা থাকবে না। সুতরাং জীবন ও জীবিকার তাগিদে বর্ষা মওসুমে ঘরছাড়া এই কৃষিজীবী, মৎস্যজীবী, শ্রমজীবীরা বজ্রপাতের কবলে পড়ে বেঘোরে প্রাণ হারাবেন, এমন বাস্তবতাও মেনে নেওয়ার মতো নয়। প্রকৃতির অনেক কিছুই মানুষ নিজ প্রতিভা বলে জয় করতে পেরেছে আবার বহু কিছুই এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে অজেয়। বজ্রপাত থেকে বাঁচার চিরস্থায়ী কোন উপায় এখন পর্যন্ত উদ্ভাবিত হয় নি। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে বিজ্ঞানীরা এ থেকে বাঁচার উপায় উদ্ভাবন করতে পারেন। তাই বলে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকা উচিৎ নয়। এই হাত পা গুটিয়ে না বসার জন্যই তাল গাছ রোপণের এই কর্মসূচী। আমরা আশা করি সরকারি এই কল্যাণমূলক কর্মসূচীটি নাম ও প্রচারসর্বস্ব না হয়ে প্রকৃত অর্থেই যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়।
শুধু তাল বীজ বপন করলেই হবে না। ভাল ভাবে পরিচর্যা করতে হবে। বীজ থেকে চারা, চারা থেকে গাছ হওয়া পর্যন্ত এর রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। বীজ যদি ভবিষ্যতে গাছে পরিণত না হয় তাহলে ঢাকঢোল পিটিয়ে ১০ মিনিটে ১০ হাজার বীজ রোপণের কোনই স্বার্থকতা থাকবে না। এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে সকলকে। আজ যারা সরকারের এই মহতী কর্মসূচীটি বাস্তবায়ন করছেন তারা যেন পরবর্তী পরিচর্যার দায়িত্বটুকুও সঠিকভাবে পালন করেন এই অনুরোধ আমাদের। তালের বীজ রোপণের এই কর্মসূচীটিকে ব্যাপকভাবে সামাজিকিকরণ করতে হবে। যে এলাকায় বীজ বপন করা হয়েছে সেই এলাকার মানুষকেই একে রক্ষা করতে হবে। রক্ষা করতে হবে নিজেদের জীবন বাঁচানোর তাগিদেই। জনগণকে এমনভাবে উদ্বুদ্ধ করতে হবে সরকার ও সমাজ নেতৃবৃন্দের।
আমরা তাল বীজ রোপণের এই মহতি কর্মসূচীর সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করি।  



আরো খবর