- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

বন্যা কিভাবে বাড়ি যাবে?

স্টাফ রিপোর্টার
দিরাই উপজেলার তাড়ইল ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া। পেশায় তিনি দিনমজুর। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার আগ্রাসন থেকে বাঁচতে ঘর ছাড়েন ১৮ জুন রাতে। গর্ভবর্তী স্ত্রীকে নিয়ে আশ্রয় নেন পাশের ধল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানেই ২৪ তারিখ জন্ম নেয় ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। বন্যার সময় হওয়ায় মেয়ের নাম রেখেছেন বন্যা।
১২২ বছরে রেকর্ড ভাঙা মহাপ্লাবনের সময় জন্ম নেয়া বন্যা জানে না ভয়াবহ তা-বের কথা। বাড়িঘর ভেঙে স্কুল ঘরে আশ্রয় নেয়া নিঃস্ব পিতাও জানেন না কিভাবে নতুন করে ভাঙা ঘর বাঁধবেন। কিভাবে নিজের পৈত্রিক ভিটায় যাবেন।
পিতা ফারুক মিয়া বললেন, বন্যায় আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। কোমর পর্যন্ত পানি হয়েছে ঘরে। রাতে বাচ্চাদের নিয়ে কই যাবো? নৌকাও পাই না। পরে সাঁতরিয়ে স্কুলে উঠছি। এই আশ্রয় কেন্দ্রেই এক সপ্তাহ আগে মেয়ে জন্ম নিয়েছে। বন্যার সময় জন্ম নিয়েছে তাই নাম রেখেছি বন্যা। এখনও ঘর ভাঙা, যাওয়ার কোনো উপায় নেই। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া আমরা বন্যাকে নিয়ে ঘরে যেতে পারবো না।
একই বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া রাজু বিবি। ফারুক মিয়ার স্ত্রীর প্রসব ব্যাথা উঠার পর তিনিই পাশে থেকে ধাত্রীর কাজ করেছেন। রাজু বিবি বললেন, শুক্রবার সকাল ১০ টায় প্রসব ব্যাথা উঠেছে। নৌকা নেই হাসপাতালে যাওয়ার। এমন পরিস্থিতিতে কিছুই করার ছিলো না। বললাম, আল্লাহকে ডাকো। পরে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। বন্যার সময় জন্ম নেয়ায় নাম রেখেছে বন্যা।

  • [১]