বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে

বন্যা পরিস্থিতি না হলেও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদী ও হাওরে পানি বাড়ছে। বুধবার রাত পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়াসহ মানুষের বাড়িঘরেও পানি উঠার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পানি ঢুকার খবরও পাওয়া গেছে। আমন ধানের বীজতলা ও আউশ জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলায়। আশার কথা হল, বৃহস্পতিবার সারাদিন কোন বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যেহেতু এখন ভর বর্ষাকাল চলছে সেহেতু যেকোন সময় আবার টানা বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। তাই আগে থেকেই বন্যা পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে সেই দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদেরকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠানের খবর পাওয়া গেছে। এইসব সভায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কিছুদিন আগে আকষ্মিক বন্যায় যখন মৌলভীবাজার শহর তলিয়ে গিয়েছিল তখন সেখানকার খাদ্যগোদামে রক্ষিত বহু ধান বন্যার পানিতে বিনষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট খাদ্যগোদাম কর্তৃপক্ষ গোদামের ভিতর পানি উঠে যাওয়ার বিষয়টি চিন্তা করতে পারেননি, তাই তিনি গোদামের ধান রক্ষায় কোন পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেননি। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ করে ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরকে নিরাপদ রাখতে তথা মূল্যবান সম্পদাদি রক্ষা করতে পানি বাড়ার বিষয়টিকে সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যায় সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন স্বল্পবিত্ত ও বিত্তহীন জনগোষ্ঠী। এদের কাঁচা ঘর-বাড়ি বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এসময় এরা কর্মহীন থাকেন। তাই এ সময়টাতে তারা যাতে উপযুক্ত সরকারি সহায়তা পেতে পারেন সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে যথেষ্ট খাদ্যশস্য মজুদ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। যাদের ঘরে পানি ঢুকে যায় তাদেরকে নিরাপদে উদ্ধার করে পুনর্বাসনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে হবে আগে থেকেই। এছাড়া পানিবাহিত রোগ বালাই থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়ে স্বাস্থ্যবিভাগকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে রাখতে হবে।
বর্ষাকালে বন্যা আমাদের দেশে একেবারেই স্বাভাবিক একটি বিষয়। এই স্বাভাবিক বন্যার সাথেই আমাদের বসবাস। বর্ষার স্বাভাবিক বন্যা পলি বহন করে আমাদের জমিগুলোকে উর্বর করে, এই অর্থে পরিমিত বন্যা আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপই। আমরা মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করি। মেঘালয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলে সেই পানি সুনামগঞ্জের হাওর নদী বেয়ে জনবসতি জলমগ্ন করে। সুতরাং আমাদের আবহাওয়া বিভাগকে অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিপাতের সাথে মেঘালয় ও আসামের বৃষ্টিপাতের প্রতিও সতর্ক পর্যবেক্ষণ রাখতে হবে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বন্যার কোন পূর্বাভাস আবহাওয়া দপ্তর থেকে জারি হয়নি। তাই বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আপাতত উদ্বিগ্ন হওয়ার মত কিছু নেই। তবে বন্যা হবে না, এমন ধরনের মনোভাব পোষণ করে হাত পা গুটিয়ে রাখারও কোন অবকাশ নেই। এরকম হলে হঠাৎ কোন দুর্যোগ আসলে সেটি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। এই জাতীয় দক্ষতা ও পারদির্শতাটুকোর উপর আমাদের ভরসা।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকা সহ নিজেদের রক্ষায় নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টিকেও আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।