বরাদ্দ কত জানেন না প্রধান শিক্ষকরা

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে বন্যা পরবর্তী সময়ে উপজেলার ১০ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াসব্লকের মেরামত কাজ চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ কেউই বলতে পারছেন না ওয়াসব্লক মেরামতের জন্য কত টাকা বরাদ্দ আসছে। কথা হয় উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের কাউকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন পারভেজে এর সাথে। মামুন পারভেজ জানালেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাদের বলেছেন ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ওয়াসব্লকের হোয়াইট ওয়াস সহ প্রাথমিক কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য। তবে বরাদ্দ কত টাকা আসছে তা তাদের জানায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রধন শিক্ষক জানালেন, প্রধান শিক্ষকদের নগদ ৮ হাজার টাকা হাতে দিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাদের নির্দেশ দিয়েছেন ওয়াস ব্লকের শুধু বহিরাংশের অংশটুকু হোয়াইট ওয়াস করে খরচের ভাউচার তাদের শীল স্বাক্ষরযুক্ত ফাঁকা ভাউচার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেয়ার জন্য। বিদ্যালয়গুলো হলো- রজনী লাইন, গুটিলা, বাদাঘাট, ঘাগটিয়া, লাউড়েরগড়, মোল্লাপাড়া, সোহালা, বালিজুড়ি, কাউকান্দি ও তাহিরপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
তাহিরপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আল আমিন বলেন, এবারের বন্যা পরবর্তী সময়ে ইউনিসেফ কর্তৃক উপজেলার ১০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াসব্লক মেরামতের জন্য ভ্যাট ট্যাক্স কর্তন করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রতি বিদ্যালয়ে ১৮ হাজার টাকা করে সর্বমোট ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নগদ হস্তান্তর করা হয়।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ কামরুজ্জামান বলেন, ওয়াস ব্লকের মেরামতের কাজটি তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে শুধু মনিটরিং করছেন। বরাদ্দের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল খায়ের বলেন, কাজটি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের। তিনি উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্মাণ কাজের মনিটরিং করাচ্ছেন। ফাঁকা ভাউচারের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি টাকা ব্যয়ের হিসাব উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে জমা দেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকদের বলেছি।