বরাদ্দ ছাড়ে বিলম্ব-বাঁধ নির্মাণে দেরি হচ্ছে

বিন্দু তালুকদার
হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। বরাদ্দ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে বাপাউবোর কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি এবং পিআইসির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।
অর্থ বরাদ্দের সংকটের পাশাপাশি নতুন করে আরও প্রকল্প তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। যার কারণে বাঁধ নির্মাণ কাজ সময়মত শেষ না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জামালগঞ্জের বৃহত্তর পাগনা ও হালীসহ মোট ৫ টি হাওরের জন্য ২৩ টি বাঁধের প্রকল্প তৈরি করা হয়। শুরুতে ওই ২৩ প্রকল্পের বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে দুই কিস্তিতে বরাদ্দ ছাড় হয় ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। মোট বরাদ্দের অর্ধেক টাকা ছাড় হওয়ায় পিআইসি কাজ শুরু করেন। কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির অনুরোধে অনেক পিআইসি বাঁধের কাজ ছাড়কৃত অর্থের চেয়েও বেশি করেন। কিন্তু এখন বরাদ্দ ছাড়ে দেরি হওয়ায় অর্থ জটিলতায় পড়ছেন তারা।
এদিকে জামালগঞ্জের ৫ টি হাওরে নতুন করে আরও ১০টি প্রকল্প তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। নতুন ১০টি প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। মোট ৩৩ প্রকল্পের ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা ছাড় না হওয়ায় পিআইসিগুলো কাজ করতে পারছে না বলে জানা গেছে।
পাগনার হাওরের দক্ষিণে দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউপির নোয়াগাঁও    
গ্রামের কাছ থেকে উড়ারবন্দ পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার বলেন,‘আমাদের প্রকল্পের বরাদ্দ ২৪ লাখ টাকা। আমরা বাঁধের কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছি। কিন্তু টাকা পেয়েছি মাত্র ৬ লাখ। বাকী টাকা পেতে এখন দেরি হচ্ছে।’
হালীর হাওরের দুর্গাপুর-মামুদপুর গ্রামের মাঝে আফরবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের পিআইসির সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন,‘ আমাদের প্রকল্প বরাদ্দ ১২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। প্রথম কিস্তিতে টাকা পেয়েছি মাত্র ৩ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। আমি বাঁধের ৭৫ ভাগ কাজ করেছি। এখন বরাদ্দ পাচ্ছি না, বরাদ্দ পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আমরা কাজ শেষ করে ফেলতাম। ’
জামালগঞ্জ উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আল ইমরান বলেন,‘ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন ২৩টি কাজের ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার মধ্যে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ছাড় হয়েছে। অনেক পিআইসি পকেটের টাকায় বাঁধের অধিকাংশ কাজ করেছে। ২৩টির মধ্যে প্রায় অর্ধেকের কাজ শেষ পর্যায়ে। নতুন করে ১০টি প্রকল্পের জন্য আরও সাড়ে ৪ কোটি টাকা টাকা লাগবে। বরাদ্দ ছাড়ের জন্য এক সপ্তাহ আগে চিঠি লিখেছি, কিন্তু অর্থ ছাড় হয়নি। টাকার জন্য পিআইসির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বার বার তাগিদ দিচ্ছেন।’
কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং জেলা কমিটির সদস্য সচিব বাপাউবো সুনামগঞ্জ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পের বকেয়া বরাদ্দ ও নতুন করে যে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সবগুলোর বরাদ্দই খুব তাড়াতাড়ি ছাড় হবে। মন্ত্রণালয়ের যে শাখা থেকে অর্থ ছাড় হয় সেই শাখায় আমি কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন ৩-৪ দিনের মধ্যে সব টাকা ছাড়ের ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



আরো খবর