বর্ষণ ও ঠান্ডা বাতাসে কাবু কৃষকরা

বিশেষ প্রতিনিধি
‘দ্রুত ধান কাটতে হবে, নদীতে পানি বাড়ছে, বৃষ্টি হবে। এসব বললেই তাড়াতাড়ি গিয়ে ধান কাটা যাবে না। পানি নিস্কাশন না হওয়ায় অনেকে চাষাবাদ করেছে বিলম্বে। আবার গত দুই দিন হয় যেভাবে ভারী বর্ষণ হচ্ছে, গত শনিবারে ৮ কেয়ার (২ একর ২ কেয়ার) জমির ধান কেটেছিলাম। শুকাতে না পারায় এই ধান নষ্ট হবার পথে। এখন নতুন করে আরো ধান কাটি কীভাবে।’
পাগনার হাওরপাড়ের ছয়হারার কৃষক নেতা ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার দ্রুত ধান কেটে আনার তাগিদ দেওয়া প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করলেন। তিনি বললেন, ‘অন্যান্য উপজেলার বা হাওরের বিষয়ে জানি না, আমাদের হাওরের অর্ধেক ধান-ই কাটার বাকী রয়েছে।’
বিশ্বম্ভরপুরের করচার হাওরপাড়ের রাধানগরের কৃষক কফিল আহমদ বলেন,‘ধান শুকানো যাচ্ছে না। এজন্য ধান কাটতে পারছি না। ভারী বর্ষণ এবং ঠান্ডা বাতাসের জন্য শ্রমিকরা হাওরে গিয়ে টিকতে পারছে না। বজ্রপাতের ভয়ও আছে। প্রতিদিনই কোন না কোন স্থানে বজ্রপাতে কৃষককের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।’ তিনি জানালেন করচার হাওরে ৭০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার সাহার দাবী পুরো জেলায় ৭০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ। এখন বাকী ধান দ্রুত কাটার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানালেন তিনি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘আমরা দুই ধরনের আশংকায় ভুগছি। একটি হচ্ছে এই সপ্তাহে হাওরে এবং উজানে বৃষ্টি হবে বেশী। আরেকটি হচ্ছে ডুবন্ত বাঁধ দুস্কৃতিকারী কর্তৃক কেটে দেবার আতংক। বাঁধ কেটে দিলে ফসলহানি হতে পারে। এমন আতঙ্কে সোমবার কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং উপজেলা কমিটির সদস্য সচিবরা জেলার সব কয়টি থানায় জিডি করেছেন। জিডিতে এ ধরনের অঘটন রোধ করতে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরপাড়ের কৃষক ফজলুর রহমান বললেন,‘উভয় সংকটে পড়েছি আমরা। বৃষ্টি এবং বাতাসের জন্য ধান কাটা যাচ্ছে না। সোমবার ৬০০ টাকা রোজের ১১ জন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে হাওরে গিয়েছিলাম। ভারী বর্ষণ এবং বাতাসের কারণে দুপুর ১২ টায় ফিরতে হয়েছে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে নানামুখী ভয় থাকে, বাঁধ ভেঙে ধান তলিয়ে যাওয়ার ভয়, ডুবরায় ধান নষ্ট করার ভয়। ভারী বর্ষণের সময় খাল বা বিলের মুখের বাঁধ যেমন দেখার হাওরের রাঙামাটিয়া বিলের পাশের বাঁধ, পুরো বড় দইয়ের বাঁধ, আষাড় দাইরের বাঁধ মাছ শিকারীরা কেটে দিতে পারে। এসব বাঁধ কাটলে মাছের উজাই ওঠবে এবং তারা বেশি টাকা পাবে, এই লোভে বাঁধ কাটতে পারে।’ ফজলুল হক বললেন,‘ভীতি আর আশংকা ভাই আমাদের সঙ্গ ছাড়ে না।’
শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরপাড়ের আঙ্গাউড়ার কৃষক শান্তুনু দাস বলেন,‘আরও ৫-৭ দিন প্রকৃতি উদার থাকলেই হাওরের ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। প্রকৃতি উদার না থাকলে কোন তাগাদায়-ই কাজ হবে না। সোমবার হাওরে গিয়ে ২ ঘণ্টাও টিকতে পারিনি। ভারী বর্ষণ, বাতাসের কারণে হাওরে যারা ছিল সকলে দৌঁড়ে বাড়িতে এসেছে।’
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বললেন,‘মঙ্গলবার থেকে ৮ মে পর্যন্ত সুনামগঞ্জের সব কয়টি উপজেলায় বৃষ্টি হবে। এরমধ্যে ২রা মে বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকবে। তবে উজানে (ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে) এই কয়েকদিন বৃষ্টি কম হবে।’
সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘নদীর পানি বাড়ার দিকে রয়েছে, সোমবার সকালে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ২.২৫ মিটার, বিকাল ৩ টায় উচ্চতা হয়েছে ২. ৩০ মিটার।