বাঁধেই মাড়াই বাঁধেই শুকানো

বিন্দু তালুকদার
চলতি বোরো মওসুমে সুনামগঞ্জের বোরো ফসলক্ষায় ৮০০ কিলোমিটার নতুন বাঁধ নির্মাণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই বছর বাঁধের কাজ তুলনামূলক ভাল হয়েছে। এতে করে বাঁধের উপর ধান মাড়াই ও ধান (ত্রিপালের উপর), খড় দু’টোই শুকানোর সুযোগ পাচ্ছেন কৃষকরা।
বাঁধের উপর ধান মাড়াই, ধান-খড় শুকানো ও কোথাও কোথাও বাঁধের উপর দিয়ে ধান পরিবহনের জন্য যানবাহন চলাচল করায় কৃষকদের উপকারে আসছে বিভিন্ন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ।
বাধঁগুলো প্রশস্ত ও উঁচু করে নির্মাণ করা কৃষকদের উপকারে আসছে বলে জানিয়েছেন কৃষক, পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ। যদিও অনেক এলাকায় অপ্রয়োজনীয় বাঁধের নামে সরকারি অর্থ লুটপাট ও বাঁধ নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের।
জানা যায়, জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচা, শনি, হালি, তাহিরপুর উপজেলার শনি, মাটিয়ান ও জামালগঞ্জের পাগনা ও হালির হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল করছে। পাশাপাশি এসব হাওরের বাঁধের উপর কৃষকরা ধান মাড়াই, ধান ও খড় শুকানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
জামালগঞ্জের পাগনার হাওরপাড়ের গজারিয়া গ্রামের কৃষক আবু রায়হান বলেন,‘ এই বছর আমাদের পাগনার হাওরের বাঁধ খুব শক্ত ও বড় করে করা হয়েছে। এভাবে কোনো বছর বাঁধ দেয়া হয় নি। বড় করে বাঁধ দেয়ার ফলে কৃষকদের অনেক উপকার হয়েছে। কৃষকরা হাওর থেকে ধান কেটে এনে বাঁধের উপর রাখতে পারছে। ধান মাড়াই করে সেখানেই খড় ও ত্রিপাল বিছিয়ে ধান শুকাচ্ছেন।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান রনজিৎ চৌধুরী রাজন বলেন,‘ আমার ইউনিয়নের অন্তত ১৫ টি বাঁধের উপর কৃষকরা ধান মাড়াই করছেন। বাঁধের উপরই হাওরের ধান ও খড় শুকাচ্ছেন। পাশাপাশি বাঁধের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ গ্রামীণ রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। আমাদের দাবি এসব বাঁধকে স্থায়ীকরণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। ’
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম আল ইমরান বলেন,‘ এবছর উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় পিআইসিদের যৌথ প্রচেষ্টায় হাওরের ফসলক্ষা বাঁধগুলো মজবুত, তুলনামূলক উঁচু ও প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হয়েছে। যার ফলে বিভিন্ন বাঁধ সময় উপযোগি উপকারে আসছে। বৃষ্টিপাতের সময় নিচু জমি ও মাড়াইখলায় যখন স্যাঁতস্যাঁতে থাকছে তখন বাঁধের উপর ধান মড়াই, ধান ও খড় দুইটাই শুকোতে পারছেন কৃষকেরা।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস বলেন,‘এবছর সুন্দরভাবে হাওররক্ষা বাঁধগুলি টেকসই ও ভালভাবে নির্মিত হওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা বাঁধের ওপর তাদের ধান মাড়াই এবং শুকানোর কাজটুকু আনন্দের সাথে সম্পন্ন করছেন।’
সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন,‘ চলতি বোরো মওসুমে সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড খুবই আন্তরিক। প্রতিটি হাওরের বাঁধ টেকসই পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অনেক বাঁধের উপর দিয়েই বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। হাওরপাড়ের অনেক কৃষকই বাঁধের উপর ধান মড়াই করছেন, ধান ও খড় শুকাচ্ছেন। বাঁধগুলোর মাটি রক্ষায় কৃষকসহ সবাই আন্তরিক হলে অনেক বাঁধ স্থায়ী হয়ে যাবে এবং অনেক বাঁধকে স্থায়ীকরণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।’