বাঁধের কাজের পাওনা পরিশোধ করে পিআইসি ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখুন

চূড়ান্ত বিল না পেয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা/কর্মচারীকে চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন ধর্মপাশায়। পিআইসি সদস্যদের অভিযোগ তারা শতভাগ কাজ শেষ করে এ পর্যন্ত পেয়েছেন ৬৫ ভাগ অর্থ। কাজ শেষ হওয়ার পর চার সাড়ে চার মাস অতিবাহিত হলেও চূড়ান্ত বিল পাওয়ার কোন লক্ষণ দেখতে না পেয়ে হতাশাজনিত কারণে ধর্মপাশায় তারা পাউবোর ওই চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করেন। পিআইসি সদস্যদের দাবি, তারা ধার-দেনা করে প্রাক্কলন অনুসারে শতভাগ কাজ করেছেন। কর্তৃপক্ষ কর্মসম্পাদন প্রতিবেদনও উপরে পাঠিয়েছেন। এখন কাজের বাকি টাকা না পাওয়ায় তারা পাওনাদারদের চাপে আছেন। অনেকেই পাওনাদারদের চাপে এলাকায় থাকতে পারছেন না। কাজ করে চূড়ান্ত বিল না পাওয়ার এই অভিযোগ জেলাজুরেই। সবগুলো উপজেলায়ই পিআইসি সদস্যরা চূড়ান্ত বিল না পাওয়ার কারণে বেকায়দা অবস্থায় আছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভও রয়েছে। কিন্তু কেন চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হচ্ছে না তার কারণ কারও কাছে বোধগম্য নয়। পাউবোও এ বিষয়ে পরিষ্কার কোন বক্তব্য দিচ্ছে না। ফলে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ না করার বিষয়টি ক্রমশই জটিল ও রহস্যময় হয়ে উঠছে।
সকলেরই জানা কথা, অধিকাংশ পিআইসির সদস্যরা কৃষক এবং তারা বাঁধ এলাকার বাসিন্দা। অর্থ-বিত্তের দিক দিয়ে তাদের অবস্থান প্রান্তিক পর্যায়ের। পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণের যে প্রাক্কলন করা হয় সেখানে ঠিকাদারদের মতো মুনাফার অংশ রাখা হয় না। অনেকটা সমাজসেবার মনোভাব নিয়েই পিআইসিকে কাজ করতে হয়। আসল কাজ কেমন হয়, তা খতিয়ে দেখার আগে পিআইসি প্রথার মূল এই উদ্দেশ্যটি মাথায় রাখা উচিৎ। এই প্রথায় কাজের মান ঠিকাদারি প্রথার চাইতে অনেক ভাল হয়ে থাকে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বাঁধের কাজে যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখিয়ে এসেছেন। গত দুই বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের তাই বলে। এদিকে পিআইসির দায়িত্বশীলরা সরকারের দেয়া অগ্রিম টাকা ও কিছু ধার-দেনা করে কাজ শেষ করে থাকেন। সময়মতো বিল না পেলে আর্থিকভাবে অসামর্থ এই পিআইসিগুলো যে বেকায়দা অবস্থায় পড়বে তা বলাই বাহুল্য। এরকম অবস্থায় চূড়ান্ত বিল পরিশোধ না করার কারণে সামনের বছর অনেকেই পিআইসি’র সদস্য হিসাবে অন্তর্ভূক্ত হতে অনাগ্রহী হয়ে উঠবেন। এটি হাওরের জন্য হবে খুবই বিপদজনক।
কিছু কিছু পিআইসি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সাধারণভাবে অধিকাংশ পিআইসি’র কাজের মান মোটামোটি সন্তোষজনক। গণমাধ্যমের সংবাদগুলো এর প্রমাণ। একটি ভাল ব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়া উচিৎ হবে না। বাঁধ নির্মাণে অলাভজনক সেবামুখী এই ব্যবস্থাটিকে টিকিয়ে রাখা ও আরও গণমুখী করার অভিপ্রায় সকলের। পিআইসি ব্যবস্থায় এখনও যেসব অভিযোগ রয়েছে, যেমন স্বজন ও দলপ্রীতি, তা সামনের দিনগুলোতে ঝেটিয়ে বিদায় করে পিআইসিকে সর্বাঙ্গীনভাবে স্বচ্ছ করার অভিপ্রায় হাওরবাসীর। তাই পিআইসিগুলোর পাওনা চূড়ান্ত বিল যার যার চূড়ান্ত কর্মসম্পাদন প্রতিবেদন অনুসারে অবিলম্বে পরিশোধ করার দাবি জানাই আমরা।
আগামী বছরের পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার সময়ও সমাগত। তাই কোন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি নয় আমরা চাই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলো সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী ব্যবস্থার প্রবর্তন করুক। এজন্য তাঁদের কোন ধরনের চাপে রাখা নয় বরং যার যেমন পাওনা তা দিয়ে দেয়া হলো পাউবো তথা সরকারের কর্তব্য।