বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় কৃষকের মনে আতঙ্ক

কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, দ. সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের একমাত্র ভরসা বোরো ফসল। কিন্তু বাঁধের কাজের সময় শেষ হলেও ৫০ টি বাঁধের মধ্যে অধিকাংশ বাঁেধর স্লুপ, দুরমুজ ও ঘাস লাগনোর কাজ শেষ হয়নি। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ দরগাপাশা ইউনিয়নের জামলখলা হাওরের ০৪ নং পিআইসির জামখলা বাঁধ ও পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ০১ নং পিআইসির শল্লাদাইড় বাঁধের মাটি কাজ শেষ হয়নি এখনও। পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ ৩২ নং পিআইসির রাঙ্গামটির বাঁধ ও ৩৩ নং পিআইসির বাঁধে নামমাত্র মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। এছাড়া পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের কাউয়াজুড়ী হাওরের ৪৮, ৪৯ ও ৫০ নং পিআইসি এবং খাই হাওরের ২৭ নং পিআইসির বাঁধের মাটি কাটা শেষ হয়নি। উপজেলার অন্যান্য বাঁধের মাটি কাটার কাজ শেষ হলেও নামমাত্র কয়েকটি বাঁধের স্লুপ এবং দুর্বা ঘাস লাগনোর কাজ চললেও অধিকাংশ বাঁধের স্লুপ কমপেকশন এবং দুর্বা ঘাস লাগানো শুরুই হয়নি। এতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওর, সাংহাই হাওর, কাচিভাঙ্গাঁ হাওর, জামখলা হাওর ও খাইহাওরের কৃষকদের ২২ হাজার হেক্টর জমির ফসল হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তবে উপজেলার দেখার হাওর, কাচিভাঙ্গা, খাই হাওর ও সাংহাই হাওরের কয়েকেটি পিআইসির বাঁধের কাজ বিগত বছরের চেয়ে তুলনামূলক ভাল হয়েছে। আবার বিগত বছরগুলিতে বিপদগ্রস্ত জামখলা, শল্লাদাইড় ও রাঙ্গামটি এবং বেধাখালির বাঁধগুলোর যে অংশ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকে সোনালী ফসল তলিয়ে গিয়েছিল এবারো সেই অংশগুলোই বিপদগ্রস্ত বলে জানিয়েছেন অনেক কৃষক। বোর মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢল হলে মহাসিং নদীর পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি চলে আসে। পানির প্রথম ধাক্কায় বাঁধগুলো হুমকির সম্মুখীন হয়। পাউবোর নিয়ম অনুযায়ী যে মাপের ভিত্তিতে কাজ করার কথা ছিল সে অনুযায়ী কিছু কিছু পিআইসি কাজ করলেও কয়েকটি পিআইসি তা না করে বাঁধের একেবারে নিকট থেকেই বড় বড় গর্ত করে এসকেভেটর দিয়ে মাটি তুলে বাঁধ নির্মাণ করেছে যা বাঁধের জন্য বিরাট হুমকি স্বরূপ।
উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সরকার চলতি বছরে নির্ধারিত সময়ে বাঁধ নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু কাজের প্রাক্কলন করতে বিলম্ব হওয়ায় কাজ শুরু হয় জানুয়ারির প্রথম দিকে। এতে কিছু বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। এদিকে বাঁধের কাজ কবে শেষ হবে এ নিয়ে চরম হতাশা আর শঙ্কায় রয়েছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার প্রায় পৌনে একলাখ কৃষক।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন্নাহার শাম্মী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। যে সমস্ত পিআইসি গাফিলতি করেছে তাদেরকে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি পিআইসির কমিটি বদল করে নতুর কমিটি দেওয়া হয়েছে। আশা করি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাঁেধের কাজ শেষ হবে।