বাঁধের বরাদ্দ বোরো ফসল রক্ষায় ভূমিকা রাখুক

আগামী বোরো মৌসুমে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের সরকারি বরাদ্দ আসার খবর পাওয়া গেছে। টাকার অংকে এর পরিমাণ ৬৮ কোটি টাকা। জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে সোমবার অনুষ্ঠিত বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি কমিটির সভায় এই তথ্য জানিয়ে বলা হয় জেলায় এবার ৮০০ কিলোমিটার বাঁধ তৈরি ও মেরামত করা হবে। আগের কাবিটা নীতিমালা অনুসরণ করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে এসব বাঁধ নির্মিত হবে বলে সভায় জানানো হয়েছে। মৌসুমের আগেই এই বরাদ্দ চলে আসাটা স্বস্তিদায়ক। এখন প্রশাসনকে সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের দিকে মনোযোগী হতে হবে। গত বছর জাতীয় নির্বাচনের জন্য পিআইসি গঠনে বিলম্ব হতে দেখা গেছে। এবার সেরকম কোনো জাতীয় ইস্যু নেই। তাই তাড়াহুড়ো না করে ধীরে সুস্থে নীতিমালা অনুসারে বাঁধ এলাকার প্রকৃত কৃষকদের নিয়ে এইসব প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। গতবারও পিআইসি গঠন ও বাঁধের প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের পছন্দমাফিক পিআইসি গঠনের অভিযোগ যেমন শোনা গেছে তেমনি অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের খবরও মিলেছে। এবার এইসব অভিযোগ থেকে বাঁধ নির্মাণ কাজকে মুক্ত থাকতে দেখতে চাই। হাওর এলাকার প্রধান ফসল বোরো চাষাবাদকে ঝুঁকিমৃক্ত করতে সরকার যে বরাদ্দ দিয়েছেন তার পাই পয়সা যথাযথ খাতে ব্যয়িত হোক এই আমাদের কাম্য। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সদিচ্ছার সম্মিলন ঘটলে এ ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে। ঠিকাদারি প্রথায় দুই বছর আগেও যেখানে দুর্নীতির মহোৎসব ছিল বাঁধ নির্মাণ কাজে, গত দুইবছর যাবৎ সেখানে পিআইসি ব্যবস্থা কার্যকর ও শক্ত তদারকি ব্যবস্থা চালু থাকার কারণে সেই দুর্নীতির মহোৎসব এখন অনেকটাই কমে এসেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক তথা বাঁধ নির্মাণ কাজে দুর্নীতির পরিমাণ শূন্যে নেমে আসুক, হাওর পাড়ের কৃষকদের এই কামনা।
গত মৌসুমে পিআইসিদের কাজের বিল পাওয়া নিয়ে জটিলতা হয়েছে অনেক। বিশেষ করে কাজের শেষ কিস্তির টাকা পেতে তাদের বহু বিড়ম্বনা সহ্য করতে হয়েছে। আমরা জানি যাদের নিয়ে পিআইসি গঠন করা হয় সেইসব কৃষক বা জনপ্রতিনিধি কেউ অঢেল টাকা-পয়সার মালিক নন। তারা ধার কর্জ করে কাজ শুরু করেন। উপরন্তু পিআইসি সদস্য রূপে দায়িত্ব পালন করা কোনো লাভজনক কাজ নয়, নিতান্তই এটি সমাজসেবামূলক কাজ। সময় মত কাজের টাকা না পেলে তাদের ভীষণ সংকটের সন্মুখীন হতে হয়। গতবার পিআইসি সদস্যদের অনেক আহাজারির সংবাদ প্রকাশিত হতে দেখা গেছে। ধর্মপাশায় ক্ষুব্ধ পিআইসিদের দ্বারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার খবর পাওয়া গেছে। পিআইসি ব্যবস্থাকে গণমুখী, দুর্নীতিমুক্ত ও সক্ষম করে গড়ে তুলতে হলে কাজের তদারকি জোরদার করার পাশাপাশি অর্থায়নের বিষয়টিও সহজ করতে হবে। টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা না পেলে ভাল মানুষ পিআইসি সদস্য হতে অনাগ্রহী হয়ে উঠবেন। এই ভাল মানুষগুলো বিমুখ হলে শূন্যস্থান দখল করবে মন্দ লোকেরা। এর পরিণামে পিআইসি ব্যবস্থাটিও কলুষিত হয়ে উঠবে। তাই এবার পিআইসিদের কাজের টাকা পাওয়া নিয়ে যাতে অহেতুক কোনো জটিলতা তৈরি না হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষকে নজর রাখতে হবে।
পিআইসি গঠনের ক্ষেত্রে গণশুনানি গ্রহণের একটি দাবি আছে। এর মাধ্যমে কমিটি গঠনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। এটি কঠিন কোনো কাজ নয়। উপজেলা প্রশাসন সহজেই গণশুনানি গ্রহণ করে পিআইসি গঠন করতে পারেন। আমরা আশা করব এবার পিআইসি গঠনের আগে এরূপ গণশুনানি গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে।