বাংলাদেশকে করোনা শনাক্তের কিট দিল ভারত

সু.খবর ডেস্ক
কোভিড-১৯ শনাক্ত করতে বাংলাদেশকে আরটি-পিসিআর কিট দিল ভারত। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ সমন্বিত জরুরি চিকিৎসা সহায়তার তৃতীয় এ চালান আজ বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ভারতের হস্তান্তর করা কিটগুলোর সাহায্যে অন্তত ৩০ হাজার পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কোভিড-১৯ শনাক্তকরণে ভারতে বহুল ব্যবহৃত কিট এই প্রথম অংশীদার দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হলো।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেন। ফোনালাপের সময় নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে কোভিড-১৯–এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে মহামারিটির প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাকে।

ভারতীয় হাইকমিশনার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তাঁর দপ্তরে চিকিৎসা সহায়তা হস্তান্তরের সময় জানান, আরটি-পিসিআর শনাক্তকরণ কিটগুলো ভারতের ‘মাই ল্যাব ডিসকভারি সলিউশন প্রাইভেট লিমিটেড’ উৎপাদন করেছে। ভারতে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের জন্য এটি বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন, বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই শনাক্তকরণ কিটপ্রাপ্ত প্রথম অংশীদার দেশ, যা এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতি ভারতের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথমে’ নীতির অংশ হিসেবে এবং কোভিড-১৯–এর বিস্তার রোধে একটি সহযোগিতামূলক আঞ্চলিক প্রচেষ্টার লক্ষ্যে ১৫ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সার্ক নেতাদের নিয়ে একটি ভিডিও সম্মেলন করেছিলেন।

দুই দেশের মধ্যকার কালোত্তীর্ণ বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন মহামারি সংক্রমণের পর তিন দফায় ভারতের সহায়তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শনাক্তকরণ কিটগুলো বাংলাদেশে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়ে দেবে, যা এ মুহূর্তে খুব প্রয়োজন।

ভারতীয় হাইকমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সার্ক কোভিড-১৯ জরুরি তহবিলের আওতায় কোভিড-১৯–এর বিস্তার রোধে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় সাহায্য করার উদ্দেশ্যে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক ব্যবহার উপযোগী এই পরীক্ষার কিটগুলো বাংলাদেশ সরকারকে ব্যাপকভাবে পরীক্ষা করার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। আরটি-পিসিআর পরীক্ষার কিটগুলো বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার কিটগুলো প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় সংরক্ষিত অবস্থায় ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে নিয়ে আসার পর আইইডিসিআরে পাঠানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণায় ভারতের ১০ মিলিয়ন ডলার প্রাথমিক সহায়তা নিয়ে সার্ক কোভিড-১৯ জরুরি তহবিল গঠিত হয়। এই তহবিলের অধীনে ৩০ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক ও ১৫ হাজার হেড-কভার সমন্বিত জরুরি চিকিৎসা সহায়তার প্রথম চালান ২৫ মার্চ বাংলাদেশকে দেওয়া হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল এক লাখ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট ও ৫০ হাজার জীবাণুমুক্ত সার্জিক্যাল ল্যাটেক্স গ্লাভস সমন্বিত জরুরি চিকিৎসা সরবরাহের দ্বিতীয় চালানটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সূত্র : প্রথমআলো