বাংলাদেশের মেয়েদের কাছে পাত্তাই পেল না পাকিস্তান

সু.খবর ডেস্ক
উৎসবটা এখনই করতে চাইছিল না মারিয়া মান্দারা। সামনে তাদের রয়েছে আরও খেলা। কিন্তু এমন আনন্দের রাতে উৎসব না করলেই যে বড় অন্যায় হতো! তাই তো সাফের অনূর্ধ্ব-১৫ মেয়েদের ফুটবলের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১৪-০ গোলে হারানোর পর টিম বাসে উঠে নেচে গেয়ে একাকার মেয়েরা।
টুর্নামেন্টে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, চ্যাম্পিয়নের মতোই দুর্দান্ত শুরু করেছে। ‘নবীন’ পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশের বড় জয়ে হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোল করেছে শামসুন্নাহার জুনিয়র। তহুরা, সাজেদা ও আনাই করেছে ২টি করে গোল। মনিকা, মারিয়া, আঁখি, শামসুন্নাহার সিনিয়র করেছে ১টি করে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ১৩ আগস্ট, প্রতিপক্ষ নেপাল।
অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে এটাই বাংলাদেশের মেয়েদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়। এর আগে গত আসরে বাংলাদেশ ৬-০ গোলে হারিয়েছিল নেপালকে। তবে এর চেয়েও বড় জয় রয়েছে বাংলাদেশের এই মেয়েদের। ২০১৫ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালে বাংলাদেশ ১৫-০ গোলে হারিয়েছিল ভুটানকে। এ ছাড়া বয়সভিত্তিক ও জাতীয় দল মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে শতভাগ সাফল্যের ধারাটাও কাল ধরে রাখল বাংলাদেশের মেয়েরা।
পাকিস্তানের মাথার ওপর ছিল ফিফার দেওয়া তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা। সেটা কাটিয়ে মাত্র এক মাস আগে ঘরোয়া ফুটবলে ফিরেছে পাকিস্তান। এরপর প্রথমবার এসেছে আন্তর্জাতিক আসরে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের এই মেয়েরা গত চার বছর ধরে দুর্দান্ত সাফল্য পাচ্ছে বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে। অভিজ্ঞতায়ও যোজন যোজন এগিয়ে থাকা মারিয়ারা যে জয় নিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করবে সেটা অনুমিতই ছিল। শুধু দেখার অপেক্ষা ছিল কত ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহমুদা আক্তার যেখানে সারাক্ষণ অলস দাঁড়িয়ে রইলেন গোলবারের সামনে। দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা সময় মাঝবৃত্তের কাছেও ছিলেন! মেয়েদের একেকটা গোল চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মতো। প্রথমার্ধেই হয়েছে ৬ গোল, দ্বিতীয়ার্ধে আরও ৮টি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে হ্যাটট্রিক করেছে শামসুন্নাহার জুনিয়র। গত এপ্রিলে হংকংয়ে চার জাতি টুর্নামেন্টে হয়েছিল সেরা খেলোয়াড়। থিম্পুতেও যেন সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে।
ম্যাচ শেষে কোচ গোলাম রব্বানীর কণ্ঠে শুধুই মেয়েদের প্রশংসা, ‘এই জয়ের সব কৃতিত্ব দেব মেয়েদের। আমি শুধু ওদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে বলেছিলাম। ওরা নিজেদের কাজ শতভাগ করেছে।’ ম্যাচ শুরুর আগে মারিয়া, আঁখি, তহুরাদের মুখে একটা কথাই ছিল, প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে নেই। সত্যি সত্যিই যে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেয়নি বাংলাদেশ সেটা তো আজ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে পাকিস্তান!
সূত্র : প্রথমআলো