বাজারে চিনির সংকট/ প্যাকেটে খুলে বাড়তি দামে বিক্রি

স্টাফ রিপোর্টার
পৌর শহরের দোকানগুলোতে চিনির সংকট দেখা দিয়েছে। দোকানে দোকানে কিছুটা খোলা চিনি থাকলেও মিলছে না প্যাকেটের চিনি। খোলা চিনির দামও বেশ বাড়তি। কেজি প্রতি দিতে হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। কারণ হিসেবে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোনোভাবেই তারা ডিলার থেকে চিনি কিনতে পারছেন না। ডিলারদের কাছে চিনি নেই বলে জানাচ্ছেন তারা। ডিলাররা বলছেন, টাকা দিয়েও কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে চিনি আনতে পারছেন না। এদিকে প্যাকেট চিনির সংকট কৃত্রিমভাবে করা হচ্ছে অভিযোগ করছেন জনসাধারণ। তারা বলছেন, চিনির দাম বাড়ার কারণে আগের প্যাকেট রেটের চিনি এখন প্যাকেট কেটে খোলা বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের তথ্যানুযায়ী মাসে ২০ থেকে ২৫ টন প্যাকেট চিনির চাহিদা রয়েছে সুনামগঞ্জে। এর বিপরীতে ডিলাররা গত ১৫ দিন ধরে এক কেজি প্যাকেট চিনিও পাননি।
শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি ও খুচরা বাজার জগন্নাথবাড়ি রোডে সরেজমিনে ঘুরে চিনির সংকট দেখা যায়। বাদল পাল স্টোর, মল্লিকা স্টোর, জয় গোপাল স্টোর, বলরাম ব্রাদার্সসহ সবকটি দোকানে খোঁজ নিয়ে এক প্যাকেট চিনির দেখাও মেলেনি। কয়েকটি দোকানে শুধু খোলা চিনি পাওয়া যাচ্ছে। সেটাও কেজি প্রতি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা মূল্যের।
বড়পাড়া এলাকার ক্রেতা আজাদ মিয়া বলেন, প্যাকেট চিনি বাজারে একটাও নেই। সবগুলো এখন খোলা হয়ে গেছে। প্যাকেটে রেট দেয়া ৯৫ টাকা কিন্তু দাম বাড়ায় খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা। তাই ৯৫ টাকার রেটের চিনি প্যাকেট থেকে বের হয়েই ১১০ টাকা হয়ে যাচ্ছে।
বাঁধনপাড়া এলাকার তুলি বলেন, বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। প্যাকেট চিনি না পেয়ে খোলা চিনি কিনেছি। কিন্তু দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এটা প্যাকেটের চিনি।
মল্লিকা স্টোরের রিপন দাস বললেন, ডিলারের কাছেই চিনি নেই। না থাকলে কিভাবে বিক্রি করবো।
মেসার্স বনিক ব্রাদার্সের বলরাম বণিক বলেন, কয়েকদিন ধরেই বাজারে প্যাকেট চিনি নাই। আমরা যোগাযোগ করেও চিনি আনতে পারতেছি না। ক্রেতাদের জন্য খোলা চিনি রাখাই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ফ্রেশ কোম্পানির পরিবেশক শফিক ট্রেডার্সের শফিকুল ইসলাম বললেন, ১২ অক্টোবর শেষ চিনির চালাম আনতে পেরেছি। এরপরে আর চিনির চালান আসেনি। টাকাই নিচ্ছে না কোম্পানি। ক্রেতাদের চাহিদার জন্য ঝুঁকি নিয়ে কম কম খোলা চিনি সিলেট থেকে আনিয়েছি।
একই কথা বললেন, তীর কোম্পানির পরিবেশক সুজন তালুকদার। প্যাকেট কেটে বিক্রির অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ৯৫ টাকা মার্কেট প্রাইসের চিনি প্যাকেট কেটে ১০৫ টাকা বিক্রি করলে খুচরা বিক্রেতারা করতে পারে। আমাদের এখানে কিছুই করার নেই।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে আরও দুইদিন আগেই আমরা অভিযানে নেমেছি। পাশাপাশি হেডকোয়ার্টারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর সাথে যোগাযোগ করেছি। রাজধানীতে চিনির সাপ্লাই কমে যাওয়ায় এমনটা হচ্ছে। তবে দুই-একদিনের মধ্যেই সাপ্লাই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এরপর তারা চিনি না বিক্রি করলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং চিনি আনানোর উদ্যোগ নেবো।
প্যাকেট কাটার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি নির্দিষ্ট করে অভিযোগ করে প্যাকেট কেটে চিনি বিক্রি হচ্ছে, আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবো। এছাড়াও আমার অফিস থেকে খোঁজ নেবো আসলেই প্যাকেট কাটা হচ্ছে কি না। অভিযোগের সত্যতা পেলেই ব্যবস্থা।