বাজিয়ে বাজনা আদায় হয়নি খাজনা

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলায় ভূমি উন্নয়ন কর খাজনা আদায়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে অভিযান চালানো হলেও আশানুরূপ বকেয়া খাজনা আদায় হয়নি। এ উপজেলায় দুই কোটি ছয় লাখ টাকা বকেয়া খাজনার মধ্যে ৩০ জুন পর্যন্ত আদায় হয়েছে এক কোটি ১০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। জগন্নাথপুর উপজেলা ভুমি কার্যালয় সূত্র জানায়, একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে জগন্নাথপুরে ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে ছয়টি। এসব ভূমি কার্যালয়ের অধীনে গত কয়েক বছরে জগন্নাথপুর উপজেলায় দুই কোটি ছয় লাখ ৫৬ হাজার ২০০ টাকা ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) অনাদায়ী রয়েছে। তার মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বকেয়া রয়েছে ৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ টাকা। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বকেয়া রয়েছে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪৭ টাকা। তার মধ্যে ৩০ জুন পর্যন্ত আদায় হয়েছে প্রতিষ্ঠান থেকে দুই লাখ ছয় হাজার ৩৮১ টাকা। ব্যক্তি পর্যায় থেকে আদায় হয়েছে এক কোটি ১০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
জগন্নাথপুর সদর অফিসের ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মিহির চক্রবর্তী বলেন, বার বার অনুরোধ ও নোটিশ দেয়ার পরও খাজনা আদায় না হওয়ায় বাধ্য হয়েই বাদ্যযন্ত্র সহকারে মাঠে নেমেছিলাম। তিনি বলেন, লোক লজ্জা ও মান-সম্মানের ভয়ে অনেকটা আদায় হলেও তা আশানুরূপ নয়।
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া গ্রামের বাসিন্দা এমরান আলী বলেন, আমার দাদা ৪০ বছর আগে যে জমি বিক্রি করে দিয়েছেন সেই জমির খাজনার জন্য আমাদেরকে চাপ দেয়া হয়েছে। ১৯৯৯ সালে আমরা ওই জমিগুলো বিক্রিত বলে লিখিতভাবে জানাই। বিক্রিত জমির খাজনার জন্য আমাদেরকে চাপ দেয়া দুঃখজনক।
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মাহমুদ বলেন, বছরের পর বছর যায় কেউ খাজনার জন্য চাপ দেয় না। হঠাৎ করে ঢাকঢোল বাজিয়ে খাজনা আদায় করতে নামায় অনেকেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।
তিনি বলেন, আমার ওয়ার্ডে সম্প্রতি এ ধরনের অভিযান হলে আমি সবাইকে বুঝিয়ে খাজনা আদায়ের চেষ্টা করছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমির দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ (সম্প্রতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদোন্নতি প্রাপ্ত) সুনামগঞ্জের খবরকে জানান, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী শতভাগ ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে আমরা বাধ্য হয়েই এ প্রক্রিয়ায় মাঠে নেমেছিলাম।