বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ নিয়ে জেলা ছাত্র ইউনিয়নের বিবৃতি

সরকার মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়নমূলক শিক্ষার স্বপ্ন দেখালেও ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তার যথাযথ প্রতিফলন দেখা যায়নি। শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবার অঙ্গিকার করলেও শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দের চালচিত্র বরং উল্টো কথা বলে। বিগত বছর সমূহের ধারাবাহিকতায় এ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও শিক্ষাখাতে টাকার অংকে বরাদ্দ বেড়েছে কিন্তু মোট বাজেটের শতাংশের হিসেব দেখলেই ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া শুভঙ্করের ফাঁকিটা টের পাওয়া যায়।
সোমবার সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক যৌথ প্রেসবিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দের সমালোচনা করে বলা হয়, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাত নিয়ে শুরুতেই একটা ধোঁয়াশা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বলা হয়েছে, ২৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন বাবদ মোট ৮৭ হাজার ৬২০ কোটি টাকা (বাজেটের ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও জিডিপির ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ) বরাদ্দ করা হয়েছে। ২৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অভ্যন্তরীণ শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে জনপ্রশাসন বা নিজ নিজ বিভাগ বা মন্ত্রণালয়ের বাইরে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দেখানোর প্রহসন ও প্রতারণামূলক একটা প্রচেষ্টা বাজেট বক্তৃতায় লক্ষণীয়। আর এর পুরো ব্যাপারই অস্বচ্ছ। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে এক করে মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ বরাদ্দ করে শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেখানোর একটা মেকি প্রচেষ্টাও বাজেটে লক্ষণীয়। প্রযুক্তি খাতকে বাদ দিলে শুধু শিক্ষা খাতের বরাদ্দ দাঁড ায় ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দটি ছিল ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
ফলে, বর্তমান বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ আগের বছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে শতাংশের হিসাবে ০ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়েছে।’
বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ, প্রতিশ্রুত জিডিপির ৬% এবং মোট বাজেটের ২০% শিক্ষা খাতে দেয়ার অঙ্গিকার বাস্তবায়ন করে বাজেটে সমতা ও ন্যায্যতা সৃষ্টির ভিত্তিতে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কর্পোরেট/ বাণিজ্যিক/ ব্যাংক/ বীমা/ ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের আয়/ লভ্যাংশের উপর শিক্ষা খাতের জন্য বিশেষ সারচার্য আরোপ করার দাবি জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি