বাড়ি ফেরার সুযোগ নেই রতনের

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
আকস্মিক বন্যায় টিনশ্যাড ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় রাত ১০টার মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধী রতন সরকার পরিবারের লোকজন নিয়ে স্থানীয় আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। ঘন্টাখানেক পরে শুরু হয় বজ্রপাত। আকস্মিক বজ্রপাতে রতন সরকারের ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। সেই আগুনে বসত ঘরের ভেতরে থাকা ধান, চালসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গত ১৬ জুন সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ১০ দিনের ব্যবধানে বন্যার পানি নেমে গেলেও রতন সরকার বাড়িতে ফিরতে পারেননি। ফলে এখনও স্ত্রী—সন্তান নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রেই অবস্থান করছেন তিনি।
রতন সরকার একজন বর্গাচাষী। নিজের জমি না থাকায় অন্যের জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গেল বোরো মৌসুুমে বর্গাচাষ করে দেড়শ মনের মতো ধান পেয়েছিলেন। সেই ধান বসতঘরে গোলাজাত করেছিলেন। চাষাবাদের পাশাপাশি তিনি গরু লালন পালন করেন। মাসখানেক আগে তিনি একটি গরু বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকা ঘরে রেখেছিলেন। ঘর ত্যাগের সময় সেই টাকাও নিতে ভুলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বজ্রপাতের আগুনে ঘরসহ সব পুড়ে ছাই হয়েছে।
রতন সরকার বলেন, ‘ঘর পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখেছি। কিন্তু কিছুই করার ছিলনা। এখন বাড়িতে ফেরার কোনো ব্যবস্থা নেই।’
দক্ষিণউড়া গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, ‘রতন সরকারের পরিবারটি এখন খুব অসহায় হয়ে পড়েছে। মানবিক মানুষেরা এগিয়ে আসলে অসহায় পরিবারটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাসেল আহমেদ বলেন, ‘বজ্রপাতের আগুনে রতন সরকারের বসতঘরসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। তার বাড়ি আমি পরিদর্শন করেছি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখেছি। তাকে পুনর্বাসনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি এবং তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকের কাছে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাকে (রতন) সহায়তা করা হবে।’