বাদাঘাট ইউনিয়নে একই ব্যক্তির নামে দুই জন্ম নিবন্ধন

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের শাহিদাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় টিকাদান কেন্দ্রে মঙ্গলবার দুইটি জন্ম নিবন্ধন সনদ নিয়ে টিকা নিতে আসেন তাসলিমা আক্তার। এসময় তাসলিমা আক্তারের কাছে ২টি জন্ম নিবন্ধন নিয়ে আসার কারণ জানতে চান হেলথ ইন্সপেক্টর বিকাশ রঞ্জন তালুকদার। জবাবে তাসলিমা বলেৃন, বিয়ের সময় বয়স ১৮ না হওয়ায় বয়স বাড়িয়ে একটি জন্ম নিবন্ধন করেছি। বিয়ের পর সঠিক জন্ম তারিখ দিয়ে আরেকটি জন্ম নিবন্ধন করেছি।
মূল সনদে টিকা তথ্য লিখা কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তাসলিমা বলেন, এটি বাতিল জন্ম সনদ, তাই এটিতেই লিখে নিয়েছি। তাসলিমা বেগম বাদাঘাট ইউনিয়নের উত্তর মুকসেদপুর গ্রামের আব্দুল জলিল মিয়ার মেয়ে।
দু’টি জন্ম সনদ দেখে জানা যায়, বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ২৩.৬.২০১৯ইং তারিখে ইস্যুকৃত জন্ম সনদে তাসলিমা আক্তার, পিতা আব্দুল জলিল, গ্রাম উত্তর মুকসেদপুর, পো. বাদাঘাট, উপজেলা তাহিরপুর, জেলা সুনামগঞ্জ, জন্ম তারিখ-৪.৩.২০০১।
আবার একই ইউনিয়ন থেকে ২৩.৮.২০২২ইং তারিখে ইস্যুকৃত জন্ম সনদে তাসলিমা আক্তার, পিতা আব্দুল জলিল, গ্রাম উত্তর মুকসেদপুর, পো. বাদাঘাট, উপজেলা তাহিরপুর, জেলা সুনামগঞ্জ, জন্ম তারিখ-৪.৩.২০০৪। অর্থাৎ জন্মনিবন্ধনে দিন তারিখ ঠিক রেখে সাল পাল্টানো হয়েছে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে রোমান ইসলাম আরাফাত নামে এক ব্যক্তি মন্থব্যে লিখেন, ২০২২ সালের জনশুমারী ও গৃহগণনা অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ। কিন্তু বাংলাদেশে অনলাইন জরিপে দেখা গেছে জন্মনিবন্ধন আছে প্রায় ২০ কোটি।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হেলথ ইন্সপেক্টর বিকাশ রঞ্জন তালুকদার এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, করোনা টিকা নিতে আসা তাসলিমা আক্তারের হাতে দুটি জন্ম নিবন্ধন দেখে প্রশ্ন করায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, একই ব্যক্তির নামে অনলাইনে দুটি জন্ম নিবন্ধন হয় না। তারপরও কি কারণে একটি ব্যক্তির নামে দুটি জন্ম নিবন্ধন হলো তা যাচাই বাছাই করে দেখা হবে।
তাহিরপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ অধ্যক্ষ ইয়াহিয়া তালুকদার বলেন, ২০১৬ সালে তাহিরপুর উপজেলাকে ‘বাল্যবিবাহ মুক্ত তাহিরপুর উপজেলা’ ঘোষণা করা হয়। এ লক্ষ্যে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছিল। এতে আমার প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা একটি নাটক পরিবেশনা করেছিল। তাসলিমা আক্তার বিয়ের জন্য বয়স বাড়িয়ে জন্মনিবন্ধন করায় বাল্যবিবাহ মুক্ত তাহিরপুর উপজেলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, সেবা গ্রহীতা এবং ইউনিয়ন পরিষদ যদি যাচাই বাছাই না করে বিয়ে সাদির ক্ষেত্রে বয়স বাড়িয়ে জন্ম নিবন্ধন করেন তাহলে তাহিরপুর উপজেলায় বাল্য বিবাহ ঠেকানো কিছুতেই সম্ভব হবে না।