বাবাকে বাঁচাতে প্রাণ দিল ছেলে

জগন্নাথপুর অফিস
মৃত্যু থেকে কেউ কাউকে বাচাঁতে পারে না। এটা অবধারিত ও চিরন্তন সত্য। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু যেন মেনে নেয়া মহা কঠিন হয়ে উঠে। অতিশোকে মানুষকে পাতর করে দেয়। এরকম এক হৃদয় বিদারক অনাকাঙ্খিত মেধাবী কলেজ ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় তার পুরো পরিবার এখন শোকে কাতর। ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসী আব্দুল্লাহপুর গ্রামে।
গত বুধবার দুপুরে ঝড়-তুফানের কবল থেকে হাওরের ফসলের মাঠ থেকে বাবাকে ডেকে আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারায় ওই গ্রামের কৃষক আদরিছ আলী ছেলে সিলেট মদন মোহন কলেজের অর্নাসের শেষ বর্ষের বাংলা বিভাগের ছাত্র সুহেল মিয়া। সে এবার ফাইনাল পরীক্ষার্থী। আগামী ১৬ এপ্রিল ফাইলার পরীক্ষার শেষ তারিখ ছিল। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সিলেটে যাওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু তার এই অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকার কাঁদছে। থামছেনা তার পরিবারের কান্না। বার বার তার মা মূর্ছা যাচ্ছেন। সুহেল সাত বোনের এক ভাই ছিল। ভাই বোনের মধ্যে তার অবস্থায় ছিল তৃতীয়। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের লোকজনকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
সুহেলের বাবা আদছিল আলী কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘বাড়ির নিকটস্থ হাওরে বোরো ফসলের মাঠে কাজ করছিলাম। তখন প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টি বইয়ে শুরু করে। তখন আমার ছেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আমাকে বাড়ি ডেকে আনতে গিয়ে বজ্রঘাতে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ে। আমাকে ঝড়-তুফানের কবল থেকে রক্ষা করতে গিয়ে আমার ছেলেই চলে গেল না ফেরার দেশে। আজ পরীক্ষার জন্য সিলেট যাওয়ার জন্য প্রস্তুুতি নেয়।’ ছেলের আর সিলেট যাওয়া হলো না এ কথা বলেই তিনি আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন।’
সুহেলে বন্ধু একই গ্রামের বাসিন্দা পারভেজ রব্বানী কামরান বলেন, ‘তার মৃত্যুই কিছুই মানতে পারছিনা। সে আমার খুবই ভাল বন্ধু ছিল। এভাবে চলে যাবে ভাবতেই কান্না এসে যায়।’
সে জানায়, গত সোমবার সিলেট থেকে বাড়ি এসেছিল সুহেল। পড়াশুনার পাশাপাশি সংসারে তার বাবাকে সহযোগিতার জন্য গত কয়েকদিন ধরে সরকারী বেসরকারী চাকুরী খোঁজছিল সুহেল। কিন্তু আকস্মিক মৃত্যুতেই সুহেলের সব স্বপ্ন ভেঙে গেল।
সুহেলের সহপাঠি একই গ্রামের রিবন আলী বলেন, আমরা একসাথেই অনার্সের ফাইল পরীক্ষা দিচ্ছি। সুহেল খুবই মেধাবী ও শান্ত প্রকৃতির ছেলে। তার মৃত্যুর সংবাদ কিছুই মানতে পারছি না। আল্লাহপাক তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, সুহেল মিয়া শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী ছাত্র ছিল। লেখাপড়ার পাশাপাশি সংসারের কাজে তার বাবাকে সাহায্য করত। সাত বোনের এক ভাই সুহেল যে কারনে ভালবাসাটা ছিল তার প্রতিবেশী। এলাকাবাসীর তার আচার আচারনে তাকে ভালবাসতেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে পুরোগ্রামবাসী শোকাহত হয়ে পড়েছেন। রোববার রাত ৯টায় তার জন্মভিটায় জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন বলেন, সম্ভাবনায় এই তরুন মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।



আরো খবর