‘বাবাগো-মাগো তোমরার চোখ ভালা অইলো না’

স্টাফ রিপোর্টার
দুর্ঘটনার দেড় ঘণ্টা পর সড়কের পাশে বসে কাঁদছিলেন সিলেটের টুকের বাজার ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের পরিবহন শ্রমিক কবির মিয়া। তিনি বিলাপ করার সময় বলছিলেন,‘আমি একজন শ্রমিক ভাই, বাবা-মা’য় চোখে দেখইন না, টেকা (টাকা) যোগার কইরা সুনামগঞ্জের ভার্ড হাসপাতালে পাঠাইয়া দিছলাম, গাড়ীতে তুইল্লা দেওয়ার (তুলে দেবার) দেড় ঘণ্টা পরে এক সাংবাদিক ভাইয়ে ফোন দিয়া দুর্ঘটনার
খবর জানাইছইন। তাইন খইলা, এই মোবাইলটা ভাই আমার কাছে আছে, আমি এই মোবাইলও আপনার ফোনের রিসিভ কল দেইক্কা করলাম, এই নাম্বারের মোবাইল যার কাছে আছে তাইন আপনার কিতা লাগইন, আমি কইলাম আমার বইন  (আমার বোন), তাইন কইলা ভাই আপনে তাড়াতাড়ি পাগলাবাজার আউকা, আপনার মাইনষের গাড়ীর দুর্ঘটনা ঘটছে। আমি কইলাম তারারে দেউকা, তাইন কইলা তারারে দেওন যাইতো নায়, আমি মোটর চালাই ভাই, আমি সাথে সাথে বুঝি লাইছি আমার মা, বাবা, বইন, মাঐ কেউ নাই।’ বিলাপ করতে করতে কবির মিয়া এসব কথা বলছিলেন, ‘আমার বাবা-মা’র চোখ ভালা অইলো না আল্লা, তুমি ভালা করতে দিলায় না।’