বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৭

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ- দিরাই সড়কের গণিগঞ্জে বাস-লেগুনা’র মুখোমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ লেগুনাযাত্রী নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের সকলেই লেগুনাযাত্রী। আসাবুর এ- আহসান এন্টারপ্রাইজ নামের লেগুনাটি সুনামগঞ্জ থেকে দিরাই এবং লিমন পরিবহন নামের বাস ঢাকা থেকে ভোরে দিরাই উপজেলা সদরে যাত্রী নামিয়ে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে আসছিল। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের গণিগঞ্জ এলাকায় দুই পরিবহনের মুখোমুখী এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় দুটি যানবাহনই সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লেগুনায় ১৪-১৫ জন যাত্রী ছিলেন। বাসে যাত্রী দেখা যায়নি। মুখোমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় লেগুনাটি দুমরে মুচড়ে যায়। লেগুনার চালকসহ ৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এরা হলেন- দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দুর্বকান্দার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আফজাল হোসেন (১৬), ফয়জুল ইসলামের ছেলে মিলন মিয়া (১৫), ইস্তফা মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া (১৬), দক্ষিণ সুনামগঞ্জের গাগলি’র আলী আকবরের ছেলে লেগুনা চালক রোমান (২৪), শাল্লা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের অনন্ত কুমার দাসের ছেলে নিমেশ চন্দ্র দাস (২২) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র সাহার ছেলে শিপন কুমার সাহা (৩৩)।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় আহত ৮ জন সদর হাসপাতালে এসেছিলেন। এদের ৬ জনকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট পাঠানো হলে পথেই মারা যান দিরাই উপজেলার সিচনী গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে ফজল করিম (৩০)।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন সুনামগঞ্জের কাশিপুর গ্রামের রাধা কু-ের ছেলে শংকর কু-, তার স্ত্রী তারামনি দাস, দিরাইয়ের রজনীগঞ্জের মকশেদপুরের মহরম আলীর ছেলে ফয়েজ মিয়া, একই উপজেলার ভাটিপাড়া’র আবুল হোসেন’এর ছেলে রাজু মিয়া ও দক্ষিণ
সুনামগঞ্জের দুর্বাকান্দার ফজল মিয়ার ছেলে রেজাউল মিয়া।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন, দিরাই উপজেলার গইচ্চা কদমতলী’র ইমান আলী’র ছেলে কাজল মিয়া ও দিরাই উপজেলার আনন্দপুরের শাকিল হোসেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ জানালেন, নিহতদের সকলের পরিচয় পাওয়া গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।