বাড়িতে ঈদ করা হলো না তিন চাচাতো ভাইয়ের

বিশেষ প্রতিনিধি
বাড়িতে এসে ঈদ করা হলো না সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দুর্বাকান্দার তিন স্বজন তরুণের। এরা তিনজনই গার্মেন্টস কর্মী। সাগর, আফজাল ও মিলন। সম্পর্কে একে অপরের চাচাতো ভাই।
এই তিন জনের সম্পর্কে চাচা পশ্চিম বীরগাঁও ইউপি সদস্য মো. সাঈদুল ইসলাম। তিনজনের মরদেহ-ই বুঝে নেয়ার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এসেছেন তিনি।
সাঈদুল ইসলাম জানালেন, মিলনের বাবা ফজল মিয়া প্রান্তিক কৃষক ছিলেন, বছর বছর ফসল তলিয়ে যাওয়া, শিলাবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়া, ধানের দাম না পাওয়াসহ নানা কারণে বড় সংসার চালাতে গিয়ে ফজল মিয়া ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই কারণে স্ত্রী সূর্যলা বেগম ৬ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় চলে গেছেন। ঢাকার মীরপুর, গাজীপুর এবং বাবুরহাটে তিন স্থানে পরিবারের সকলেই আছেন কয়েক বছর ধরে।
মিলন একাই গ্রামে ঈদ করার জন্য চাচাতো ভাই সাগর ও আফজালের সঙ্গে আসার জন্য শনিবার রাতে ঢাকা-সুনামগঞ্জের গাড়িতে এসেছিল। দিরাই সড়ক মোড়ে ভোরে নেমে তিনজনেই যাচ্ছিল নিজ গ্রামে, পথের দুর্ঘটনা তাদের এবং স্বজনদের ঈদ আনন্দের মৃত্যু ঘটালো। মিলনের বাবা হারালেন পুত্র সন্তান ৬ বোন হারালো একমাত্র ভাইকে।
তিনি জানালেন, ফজল মিয়া, তার স্ত্রী এবং ৬ মেয়ে ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ গণমাধ্যমে দেখে পাগলপ্রায় হয়ে বাড়ি ফিরছে।
মিলনের চাচাতো ভাই ইস্তফা মিয়ার ছেলে সাগরও ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করে। বছরে একবার এই ঈদে বাড়ি আসে। শনিবার বাবা ইস্তফা মিয়াকে বড় ছেলে সাগর ফোন দিয়ে বলেছিল, ‘বাবা, ভাই ও ২ বোনের জন্য কাপড়- চোপড় ও ৪১ হাজার টাকা নিয়ে আসছি। তুমি চিন্তা কর না, তোমার কিছু ঋণ আছে, এগুলো পরিশোধ করব এবং ঈদে সকলে মিলে আনন্দ করবো।’ এই আনন্দ একেবারেই ম্লান হয়ে গেছে বলে কাঁদছিলেন তাঁর চাচাতো বোন সালমা বেগম।
আফজাল হোসেনও একইভাবে এক বছর পর বাবা মোহাম্মদ আলী ও মা দিলারা বেগম এবং ৫ ভাই ও ১ বোনকে নিয়ে গ্রামে ঈদ করতে এসেছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দের ঈদ উদ্যাপন কেড়ে নিল ঘাতক চালকেরা।
এই তিন তরুণের মৃত্যু কেবল দুর্বকান্দাবাসীকে নয় কাঁদাচ্ছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাবাসীকে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি বোরহান উদ্দিন দোলন এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসনাত বললেন, পুরো উপজেলার মানুষ এই দুর্ঘটনায় শোকে ভারক্রান্ত।