বিআরটিসির পরিবহনসেবা সংকোচন, এবার দরকার আইনি পদক্ষেপ

সম্পূর্ণ একতরফা দাবি মেনে নেয়ার মধ্য দিয়ে বেসরকারি পরিবহন মালিকরা ২ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘট কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী রবিবার সন্ধ্যায় সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে বেসরকারি পরিবহন খাতের নেতৃবৃন্দ ও বিআরটিসি’র কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে বিভাগীয় কমিশনার বৈঠকে বসেন। ওখানে সমঝোতা হয় যে, এখন থেকে সুনামগঞ্জ-সিলেট রুটে বিআরটিসি’র ৪টি বাস চলাচল করবে। এই বাসগুলো দিনে চারবার সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ আসবে আর চারবার সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট যাবে। বস্তুত বেসরকারি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের এই দাবিটিই ছিল প্রধান। এই দাবি মেনে নেয়ার মাধ্যমে তাদের একচ্ছত্র বিজয় অর্জিত হলো এবং তারা আনন্দিত হয়ে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে যাত্রী সাধারণকে প্রভূত স্বস্তি দিলেন। সকলেই জেনে এসেছেন যে, যেকোনো বহুপক্ষীয় সমঝোতা বৈঠকেই প্রতিটি পক্ষকে কিছুটা ছাড় দিতে হয় ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য। কিন্তু এই জায়গায় আমরা উল্টো চিত্র দেখলাম। বেসরকারি পরিবহন খাত আগে থেকেই বিচার মানি কিন্তু তাল গাছ আমাদের জাতীয় মনোভাব পোষণ করে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। আর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ সেটিই মেনে নিয়ে তাদের প্রাধান্য স্বীকার করে নিলেন। বৈঠকে এ নিয়ে কোনো বিতর্ক বা ভিন্ন মত হয়েছে এমন বক্তব্য গণমাধ্যমে আসেনি। অর্থাৎ বিআরটিসি’র যে প্রতিনিধি সভায় যোগদান করেছিলেন একজন সরকারি কর্মচারী হিসাবে সংগত কারণেই তার কণ্ঠ স্তিমিত থাকার কথা। ওখানে ছিল না সাধারণ যাত্রীদের কোন প্রতিনিধিত্ব। সাধারণ যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব থাকলে আমরা নিশ্চিত বিভাগীয় কমিশনার এমন একতরফা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারতেন না। এর আগে সিলেটে অনুষ্ঠিত একটি গণশুনানীতে সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে কয়েকজন উপস্থিত হয়ে শক্তিশালী ও যৌক্তিক বিতর্কের অবতারণা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেখানে পরিবহন নেতৃবৃন্দ এমন বক্তব্য শুনে অনেকটা তেড়েফুঁড়ে উঠেছিলেন। বিভাগীয় কমিশনারের উচিত ছিল সমঝোতা বৈঠকে সাধারণ যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
সরকারি সড়কে সরকারি গাড়ি চলতে পারবে না। বিআরটিসি চারটি গাড়ি দিয়ে আটটি ট্রিপ মেরে ড্রাইভারের বেতনই তুলতে পারবে না। সুতরাং এই রুটে বিআরটিসির সার্ভিসের অপমৃত্যু ঘটল, আপাতত এটুকু বলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বেসরকারি পরিবহন খাত সড়ক থেকে বিআরটিসিকে হটিয়ে দিয়ে যে যাত্রী সাধারণের সম্মিলিত দাবিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো তার আইনি দিক খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা মনে করি বিষয়টিকে আদালতে নিয়ে যাওয়া উচিত। রাষ্ট্রের পরিবহন সংক্রান্ত সকল আইন ও বিধি-বিধান দেখে আদালত থেকেই সিদ্ধান্ত আসুক সরকারি সড়কে সরকারি মালিকানাধীন বিআরটিসির বাস চলতে পারে কি পারে না। গত কয়েক মাস ধরেই সাধারণ যাত্রীরা মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে সড়কে বিআরটিসির বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর দাবি তুলেছিলেন। এই দাবির মধ্যে কোনো লুকোছাপা ছিল না। মানুষের কণ্ঠ এই দাবিতে উচ্চকিত। প্রশাসন সাধারণ মানুষের এই আকাক্সক্ষার কথা জানেন। কিন্তু সমঝোতা বৈঠকে তাঁরা ওই আকাক্সক্ষার প্রতি কোনো সম্মান দেখালেন না, আফসোস এ টুকোই। যেহেতু প্রচলিত আপোশ ফর্মুলায় এই দাবি পূরণ করা হয়নি তাই সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে সমাজের সচেতন মহলকে এখন আইনি পন্থায় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত পাওয়ার প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে হবে। আমরা জানি বিআরটিসির সার্ভিস বাড়ানোর জন্য জেলার অনেক সম্মানীয় আইনজীবী রাজপথে সরব ছিলেন। অসংগঠিত যাত্রী সাধারণের পক্ষে তাঁরা এই প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। যদি এই কাজটি তাঁরা করেন তাহলে অবশ্যই ন্যায্য দাবি আদায়ের পথ হিসাবে নতুন একটি দিগন্তের উন্মোচন ঘটবে।
আমরা এ বিষয়ে সচেতন মহলের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ থাকলাম।