বিআরটিসি বাস সার্ভিস-মধ্য শহরে টিকেট কাউন্টার খোলা হোক

বিআরটিসি’র বাস সংযোজনের মধ্য দিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে যাত্রী পরিবহনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। এর মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জ-সিলেট লাইনে একটি মাত্র পরিবহন সমিতির একাধিপত্যেরও অবসান ঘটার একটি সম্ভাবনা তৈরি হল। তবে বিআরটিসির এই সার্ভিস যাতে চালু না হয় সেজন্য বর্তমান পরিবহন সমিতি উদ্বোধনের দিনই অনির্দিষ্ট কালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়। ভরা ঈদের মৌসুমে এই ধর্মঘটের কারণে অন্তত একদিন যাত্রীদের চরম নাজেহাল সইতে হয়। তাদের বিরোধিতা উপেক্ষা করেই বিআরটিসি বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বিরোধিতাকারীদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে দেন এই সার্ভিস চালু হবেই। মন্ত্রী মহোদয়ের পরিষ্কার বার্তায় বিরোধিতাকারীরা পশ্চাদপসরন করে। মন্ত্রী এদিন সুন্দর একটা কথা বলেছিলেন। তাঁর কথার সারমর্ম ছিল এই, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রতিযোগিতা করেই টিকে থাকতে হবে, গায়ের জোরে নয়। তিনি বর্তমান পরিবহন সমিতির নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, আপনারা যাত্রী সেবা বাড়ান, উন্নত গাড়ি রাস্তায় আনেন, ভাড়া কমান; তাহলে এমনিতেই ১১০ টাকা ভাড়া দিয়ে কেউ বিআরটিসির বাসে চড়ে সিলেট যাবে না। মোদ্দা কথাটিই বলেছেন মন্ত্রী। প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থায় এমন করেই জায়গা করে নিতে হয়। কিন্তু এর পরিবর্তে যখন সংঘশক্তির অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয় তখন সেটি হয়ে উঠে অপরাধকর্ম। এই অপরাধকর্মের বিরুদ্ধেই সেদিন মন্ত্রী সাবধান বাণী উচ্চারণ করে বলেছিলেন, সরকারের অনেক শক্তি, সেই শক্তি দেখাতে বাধ্য করবেন না। এমন একটি প্রেক্ষাপটে জেলায় বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু করার জন্য আমরা পরিকল্পনামন্ত্রী, একই সাথে বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, আপাতত এই লাইনে উভয় দিক থেকে ৬টি বাস চলাচল করবে। অর্থাৎ সুনামগঞ্জ থেকে ৩টি বাস ছাড়বে, তেমনি সিলেট থেকেও ৩টি বাস ছাড়বে। সুনামগঞ্জ-সিলেট লাইনে যে পরিমাণ যাত্রী তাতে এই ৬টি বাস একেবারেই নগণ্য। এখানে বাসের সংখ্যা বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন। এখন দেড় ঘণ্টা পর পর গাড়ি ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে বিআরটিসির স্থানীয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আমরা জানি না এই সময়সূচি অক্ষরে অক্ষরে মানা হয় কিনা। তবে আমাদের দাবি হলো অন্তত আধ ঘণ্টা পর পর একটি বাস ছাড়ার ব্যবস্থা করা হোক। বর্তমান বেসরকারি পরিবহন সমিতির মতো যাতে বিআরটিসির সার্ভিসটিও যাত্রী হয়রানির নানা প্রপঞ্চ দ্বারা আক্রান্ত না হয় সেদিকে সরকারের দৃষ্টি রাখতে হবে। আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিআরটিসি সার্ভিসের নানা অব্যবস্থাপনার খবর জানি। সুনামগঞ্জে যাতে সেইসব অবস্থার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকে কর্তৃপক্ষকে শুরু থেকেই নজর রাখতে হবে।
বিআরটিসি বাস সার্ভিসটি নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে চলাচল করে। তাদের কাউন্টারও সেখানে। আমরা দাবি করি মধ্য শহরে একটি কাউন্টার স্থাপন করার। মধ্য শহরে কাউন্টার করা হলে যাত্রীরা সহজেই পছন্দমত সময়ের টিকেট কেটে যথাসময়ে নতুন টার্মিনালে যেয়ে বাসে চাপতে পারবেন। এতে যাত্রীদের সময়ের অপচয় বন্ধ হবে। বিষয়টি কার্যকরভাবে ভেবে দেখার জন্য আমরা বিআরটিসির স্থানীয় প্রতিনিধির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একই সাথে আমরা প্রত্যাশা করি, কোন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এই সার্ভিসটি যেন গতি না হারায়। এই সার্ভিসটি বন্ধ করে দিতে নানামুখী চক্রান্ত চলতে থাকবে। সেইসব চক্রান্ত মোকাবিলা করে বিআরটিসিকে যাত্রীবান্ধব অবস্থান তৈরি করতে হবে।
বিআরটিসি বাস সার্ভিসের অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করি।