বিএনপি আ.লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল -মির্জা আজম

সোহেল তালুকদার, দ. সুনামগঞ্জ
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেছেন, ‘২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি জোট সরকার আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। সেই সময় তারা আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যা করেছে। হত্যা করেছে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগের তুখোড় নেতা আহসান উলাহ মাস্টারকে। তারা আওয়ামী লীগের কর্মীদের হত্যা করেছে। পিতার সামনে মেয়েকে ধর্ষণ করেছে, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে, ভাইয়ের সামনে বোনকে ধর্ষণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য ২১ আগস্ট জনসভায় তাঁকে লক্ষ্য করে ৯টি গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছিল। সেই হামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান সহ ২১ জন নেতা কর্মী শহীদ ও ৫শত নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন। তখন কোথায় ছিল গণতন্ত্র? এখন সেই গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলছেন আমাদের সুশীলরা।
রবিবার বিকাল ৩টায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে, গণপূর্ত বিভাগের বাস্তবায়নে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ একর জায়গার উপর নির্মিত সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দক্ষিণ সুনাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপি জামায়ত জোট সরকারের সময় বাংলাদেশ তিন বার দুর্নীতিতে চ্যা¤িপ য়ান হয়েছিল আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্ব উন্নয়নে রোল মডেল।
তিনি বলেন, বিএনপির সময় বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের সর্বনি¤œ গরীব দেশ আর সেই দেশের সব চেয়ে ধনী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে নিজের স¤পদের পাহাড় বানিয়েছিল। এখন সেই পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরে আসছে। তাদের বিচার হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মানুষের মুখে খাবার থাকে না, শান্তিতে ঘুমাতে পারে না, আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষ ৩ বেলা পেট ভরে খেতে পারে, মানুষের উন্নতি হয়, দেশের উন্নয়ন হয়, মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারে।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এই দেশ উন্নয়নের মহা সড়কে অগ্রসর হচ্ছে। দেশে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। মাথাপিছু আয় অনেক বেড়েছে। ঘরে-ঘরে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গ্রামের মানুষ ও হাওর অঞ্চলের মানুষের কথা সব সময় চিন্তা করেন। তাই সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট হচ্ছে, হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫শত শয্যা বিশিষ্ট আমাদের মদনপুরের সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের কাজ শুরু হয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবো। সেই সাথে সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপনের কাজও নীতিগতভাবে গ্রহণ হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য আইন প্রনয়ণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কি হচ্ছে না এই সুনামগঞ্জে? আগে কি এগুলো কেউ চিন্তা করতে পেরেছিল? স্বপ্নেও চিন্তা করা যেত না। আওয়ামী লীগের কারণেই এসব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। আমারদের রানীগঞ্জে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট বিভাগের সর্ব বৃহৎ কুশিয়ারা নদীর উপর রানীগঞ্জ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে, ব্রীজটি হয়ে গেলে ঢাকা যেতে আমাদের ২ ঘণ্টা সময় বাঁচবে। সেই সাথে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর উপর আব্দুজ জহুর সেতু নির্মাণ করেছে আওয়ামী লীগ, এখন মোহনগঞ্জ সুনামগঞ্জ সড়কের কাজও বাস্তবায়ন করা হবে। সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এক সাথে ১৩টি ব্রীজ নির্মাণ করেছি আমরা, এখন সেই রাস্তায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তকরণের কাজও করছি।
আলোচনা সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি তহুর আলীর সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি প্রভাষক নুর হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. জয়াসেন গুপ্তা এমপি, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামছুন নাহার বেগম শাহানা রব্বানী, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন, সাংগঠনিক স¤পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকমল হোসেন, বিশিষ্ট শিল্পপতি তরুণ উদ্যোক্তা শ্যামল রায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক আতাউর রহমান প্রমুখ।
এর আগে বেলাল ১১টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জ মৎস্য হ্যাচারীর সামনে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের উত্তর পাশে ৫ একর জায়গায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আযম ও অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিউল আলম, কামরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. বরকত উল্লাহ খান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সফি উল্লাহ, বিশিষ্ট শিল্পপতি তরুণ উদ্যোক্তা শ্যামল রায় সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।