বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যদিকে, কোন কোন স্থানে আওয়ামী লীগেরও নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেবার ঘটনাও ঘটছে। বিএনপি অবশ্য এসব ঘটনাকে ‘সাজানো’ দাবি করছে। আওয়ামী লীগ বলছে,‘নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করছে বিএনপি জামায়াতের কর্মীরা।’
রোববার রাতে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা থেকে বিএনপি’র ১১জন নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন এই নির্বাচনী এলাকার বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ফজলুল হক আছপিয়া। এঁরা হলেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মোহাম্মদ ফুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল হক, যুবদল নেতা জামাল উদ্দিন, দলের নেতা হাবিব উল্লাহ, আবদুর রাজ্জাক, মিসবাহ উদ্দিন ও জামাল হোসেন। বাকি পাঁচজন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের। এঁরা হলেন ফরিদ আহমদ, নজরুল ইসলাম, ওয়ারিছ মিয়া, মিরাজ মিয়া, আবদুল মজিদ।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান রোববার রাতে ছয়জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে থানায় মামলা আছে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ জানিয়েছেন, রোববার রাতে নাশকতার ঘটনা ঘটাতে পারে এমন দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-তাহিরপুর) আসনের বিএনপি প্রার্থী নজির হোসেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন তাঁর নির্বাচনী এলাকার ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজদ হোসেন, বাদাঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চাঁন মিয়া এবং জেলা ছাত্রদলের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল কালামকে পুলিশ কোন কারণ ছাড়াই সোমবার গ্রেপ্তার করেছে। মধ্যনগরে আগে থেকে অনুমতি নেবার পরও সোমবার তিনি সভা করতে পারেন নি, তাঁর ঘোষণা করা সভাস্থলে যুবলীগ সভা করেছে। পুলিশকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি।
নজির হোসেন বলেন,‘নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না। কিন্তু পুলিশ সেটি মানছে না।’
এদিকে, জামালগঞ্জের উজান লালপুরে রোববার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী তালুকদার জানান, তাঁদের ধারণা বিএনপি-জামায়েতের সমর্থকরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান বলেন,‘নাশকতার মামলার আসামী কিংবা নাশকতার ঘটনা ঘটাতে পারে এমন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মী কিংবা সাধারণ ভোটারের কাউকে উদ্দেশ্যমূলক হয়রানি করা হচ্ছে না।’