বিটিসিএল’র সেবা অচল

আসাদ মনি
জেলায় বিটিসিএল’র সকল রকমের সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। গত সোমবার সন্ধ্যা (২৬ আগস্ট) থেকে কল ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহক। তবে ২৮ তারিখ থেকে কিছু কিছু ইন্টারনেট সেবা চালু হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লি.(বিটিসিএল)-এর সুনামগঞ্জ জেলার সব রকমের সেবা বন্ধ রয়েছে। পূর্বে কোনো নোটিশ দেওয়া ছাড়াই এরকম হঠাৎ করে সেবা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা।
জানা যায়, জেলায় মোট টেলিফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১৬ শ, ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ২৯১ জন। বিটিসিএল’র কল ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। সেবা বন্ধ থাকায় তাদেরকে ভয়েস কলের জন্য মুঠোফোন ও ইন্টারনেটের জন্য মডেম ব্যবহার করতে হচ্ছে। ২৮ আগস্ট থেকে ইন্টারনেট সেবা চালু হয়েছে বলে বিটিসিএল দাবি করলেও গ্রাহকরা বলেছেন, এভাবে চালু হবার চেয়ে নাই থাকা ভাল, খুব ধীর গতিতে চলছে বিটিসিএল’র নেট। হিউম্যান ল্যাবের রিসিপশনিস্ট ফারজানা বলেন, কয়েকদিন ধরে টেলিফোনে কল আসে না। সব কল সেল ফোনে আসে। অনেক রোগীর কাছে টেলিফোন নাম্বার আছে, বিকল্প যোগাযোগের সেল নাম্বার নেই। এতে রোগীদের সমস্যা হচ্ছে।
সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ই-কমার্স ইনচার্জ ঋষিকেশ বণিক বলেন, সারাদেশে আমরা পার্শ্বেল, কুরিয়ার, ই-কমার্স আদান-প্রদানের মাধ্যমে মানুষের সেবা দিয়ে থাকি। কোনো পার্শ্বেল আসলে প্রাপকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে হয়। রোববার (২৫ আগস্ট) থেকেই টেলিফোন দিয়ে কল করতে পারছি না। কল আসেও না। এতে আমাদের কাজ বেড়ে গেছে। ৩টি মুঠোফোন ব্যবহার করতে হচ্ছে।
হামর্দর্দ সুনামগঞ্জ জেলার শাখা ব্যবস্থাপক মোবারক হোসেন জানান, টেলিফোন কাজ করছে না। অবশ্য এটা নতুন নয়। অনেক সময় লাইনে ডিস্টার্ব দেখা যায়। এজন্য বিকল্প হিসেবে একটা সেল ফোন সাথে রাখি।
সুনামগঞ্জ অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাফাত উল হক চৌধুরী বলেন, টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে শিক্ষার্থীদের অভিবাবকবৃন্দ যোগাযোগ করেতে পারছেন না এবং অফিস থেকে শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ২৮ তারিখ ইন্টারনেট না থার্কা কারণে মেইল করতে পারি নি। বৃহস্পতিবার ইন্টারনেট চালু হলেও চলছে কচ্ছপ গতিতে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী সৌরভ মিয়া বলেন, বিটিসিএল’র স্থানীয় কর্মকর্তারাই মানুষকে সেবা দিতে চান কী-না, সেটি বুঝতে হবে। আমার মনে হচ্ছে তাদের সঙ্গে বেসরকারি কোম্পানি’র আঁতাত আছে।
এবিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লি. (বিটিসিএল)-এর সুনামগঞ্জ জেলা অফিসে গেলে সহকারী ব্যবস্থাপক আব্দুল মুকিত’কে পাওয়া যায় নি। একজন কর্মচারী জানালেন, তিনি কালেভদ্রে এখানে আসেন। সিলেটে থেকেই অফিস করছেন।
এ বিষয়ে জুনিয়র সহকারী ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম ও মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, আব্দুল মুকিত স্যার সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। তিনি সিলেট অফিসের সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্বে আছেন। এজন্য তিনি সুনামগঞ্জ অফিসে আসেন না। সেবা বন্ধ থাকার ব্যাপারেও এরা কিছুই বলতে পারলেন না।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সহকারী ব্যবস্থাপক আব্দুল মুকিত বলেন, সার্ভার ডাউন হওয়ায় ২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৭ টা থেকে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ছিলো ,তবে ২৮ তারিখ থেকে ইন্টারনেট সেবা সচল আছে। আমরা টেলিফোন সেবা সচল করতে কাজ করছি। কবে নাগাদ সমস্যাটির সমাধান হবে তা বলা যাচ্ছে না এখনো।