বিতর্কিত পিএসসির আস্থায় ফেরার রহস্য

সু.খবর ডেস্ক
এক সময় সরকারী কর্মকমিশন (পিএসসি) ছিল বিতর্কিত পরীক্ষা, নিয়োগে দুর্নীতি আর অনাস্থার কেন্দ্র। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা তলানীতে গিয়ে পৌঁছে। পরীক্ষা হলেই হাওয়া ভবনের তালিকা ধরে নিয়োগের কেলেঙ্কারি দেখে মানুষ। আস্থা হারান মেধাবীরা। অথচ আজ পিএসসিই হচ্ছে দেশের যে কোন পরীক্ষা ও নিয়োগের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। কিন্তু কিভাবে এমন মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করল প্রতিষ্ঠানটি তারই রহস্য জানালেন যার নেতৃত্বে এ পরিবর্তন সেই চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। দায়িত্বের প্রান্তে এসে একান্ত সাক্ষাতকারে তুলে ধরেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত চাওয়া ও সরকারের সহযোগিতায় কিভাবে পিএসসিকে পরীক্ষা ও নিয়োগে সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়েছে। এই মর্যাদা ধরে রাখার পথও বাতলে দিয়েছেন চেয়ারম্যান।
নিয়োগের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যেখানে ২০০১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত সরকারী কর্মকমিশনের (পিএসসি) নিয়োগের সুপারিশ ছিল মাত্র সাড়ে ১৬ হাজার। সেখানে গত ১০ বছরে নিয়োগ পেয়েছে সাড়ে ৬১ হাজার চাকরি প্রার্থী! আগে যেখানে একটি ক্যাডার নিয়োগের ফল প্রস্তুত করতে সময় লাগতো তিন থেকে চার মাস, এখন সেখানে সময় লাগছে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ। এ পরিসংখ্যানই বলে দেয় দেশের সরকারী চাকরির পরীক্ষা ও সুপারিশকারী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসির পরিবর্তনের চিত্র। কেবল সংখ্যাগত পরিবর্তনই নয়, দ্রুত ফল প্রকাশের সফটওয়্যার প্রস্তুত ও ব্যবহার পাল্টে দিয়েছে পিএসসিকে। করোনা সঙ্কট সামলাতে সফটওয়্যার ব্যবহারেই মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় সাত হাজার ডাক্তার ও নার্স নিয়োগের মতো অসম্ভবকে সম্ভব করা গেছে। জনকণ্ঠের অনুসন্ধান আর পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকের দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে বেরিয়ে এসেছে এক বিতর্ক থেকে আস্থার কেন্দ্রে চলে আসা পিএসসির অর্জনের নানান রহস্য।
পরিসংখ্যান বলছে, পিএসসির নতুন ভাবমূর্তির কারণেই মেধাবীরা এখন অনেক বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে বিসিএস ও নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষায়। পিএসসি যে অতীতের বিতর্কিত অবস্থান থেকে সরে এসে বর্তমানে একটা আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছে। ফলে প্রতিটি বিসিএসেই আবেদনকারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে ব্যাপকভাবে। কিন্তু কিভাবে এমন মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হলো? এমন প্রশ্নে প্রতিষ্ঠানটি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন, সরকারী কাজে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ প্রদান বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অন্যতম সাংবিধানিক দায়িত্ব। পিএসসির সাংবিধানিক কাজে সরকার কখনও হস্তক্ষেপ করেনি বরং বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে সরকার সবসময় আমাদের সহযোগিতা করেছে। আমরা এখানে স¤পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছি।
ফলশ্রুতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা গেছে এবং যোগ্যরা চাকরি পাচ্ছেন। মূলত স্বচ্ছতার কারণে পিএসসির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে। পিএসসির পরীক্ষার স্বচ্ছতা আনয়নে কমিশনের বিজ্ঞ সদস্য, কমিশন সচিবালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্ত, কর্মচারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কমিশন কর্তৃক গৃহীত নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণ এবং পরিচালনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করায় আমরা আমাদের কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পেরেছি।
জানা গেছে, পরীক্ষায় স্বচ্ছতার আনার জন্য কমিশন প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তায় এনেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। যা আগে কোন সরকারের মেয়াদেই চিন্তা করা হয়নি। ড. সাদিক বলছিলেন, আপনারা জেনে থাকবেন, ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে বিসিএসসহ অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হতো। আমরা প্রশ্ন ফাঁস শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছি। পরীক্ষার ঠিক ৩০ মিনিট পূর্বে লটারির মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের সেট নির্ধারণ করা হয়। এছাড়াও মৌখিক পরীক্ষার দিন সকালে বোর্ড নির্ধারণ করা হয়। এতে কে কোন বোর্ডে পরীক্ষা দেবে তা জানা যায় না।
এভাবে পরীক্ষার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা আনা সম্ভব হয়েছে। সরকার ২০১০ সালের নন-ক্যাডার নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়নের ফলে বিসিএস হতে উত্তীর্ণ কিন্তু পদ স্বল্পতার কারণে যাদের ক্যাডার পদে সুপারিশ করা যায়নি তাদের বেশিরভাগ প্রার্থীকে আমরা কোন না কোন চাকরিতে সুপারিশ করতে পেরেছি। মূলত এসব পদক্ষেপের কারণে পিএসসি তার মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে বলে আমি মনে করি।
জানা গেছে, অতীতের বিকর্তিক পরিচয় কাটিয়ে আজকের পরিচয়ে পিএসসিতে আনতে নেয়া হয়েছে আরও বহু পদক্ষেপ। ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন, আমি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মোট পাঁচটি বিসিএস নিয়োগ পরীক্ষা স¤পন্ন করতে পেরেছি। এছাড়াও বর্তমানে আরও দুটি বিসিএস এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৩৫তম হতে ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষায় ক্যাডার পদে ১৪ হাজার ৮১৩ জনকে এবং তিনটি বিসিএস হতে পাঁচ হাজার ৪৬ জনকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করতে পেরেছি। বিসিএস ছাড়াও শুধুমাত্র নন-ক্যাডারে পৃথক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত ৫ বছরে আমরা ৩০ হাজার ৯৭৮ জনকে বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের নিমিত্ত সুপারিশ করতে পেরেছি। বিসিএস ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পরীক্ষার ফলাফল নিবিড়ভাবে প্রস্তুতকরণের লক্ষ্যে আমরা দুইটি ডেডিকেটেড রেজাল্ট প্রসেসিং রুম বা আরপি রুম স্থাপন করেছি। এছাড়াও নন-ক্যাডার পরীক্ষায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের একই গ্রেডের বা কাছাকাছি পদের জন্য আমরা আলাদা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও আলাদা পরীক্ষা না নিয়ে একই সঙ্গে নিয়োগের কার্যক্রম স¤পন্ন করেছি।
এতে করে আমাদের অনেক সময় ও অর্থের সাশ্রয় হয়েছে। আমার কাজে তেমন কোন বাধার সম্মুখীন হইনি। এ কাজে আমি সবসময় আমার সহকর্মী কমিশনের বিজ্ঞ সদস্যগণ এবং কমিশনের সচিব, সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। চেয়ারম্যান জানান, বিসিএস পরীক্ষার উত্তরপত্র পরীক্ষণের জন্য দুইজন পরীক্ষক কর্তৃক মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। এতে নিয়োগ পরীক্ষায় অধিকতর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়াও নন-ক্যাডার পরীক্ষায় আরও স্বচ্ছতার জন্য চারটি ভিন্ন রংয়ের প্রশ্নপত্রের কাগজ উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্র মুদ্রণের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করায় ইংরেজি মাধ্যমের প্রার্থীরা নতুন করে বিসিএস পরীক্ষার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য শ্রুতিলেখক হিসেবে পিএসসি প্রশিক্ষিত রোভার স্কাউট টিমের সদস্যদের নিয়োজিত করে থাকে। পাশাপাশি তাদের যাতায়াত সহজ করতে পরীক্ষার হলে নীচতলাতে বিশেষভাবে তাদের আসন ব্যবস্থাপনা করা হয়ে থাকে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য দফতরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে নিয়োগ পরীক্ষার কার্যক্রম স¤পন্ন করা হয়ে থাকে।
বিসিএস পরীক্ষা চলাকালীন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, হল তত্ত্বাবধায়ক ছাড়াও কমিশনের বিশেষ ভিজিলেন্স টিম কাজ করে থাকে। প্রতিটি বিসিএস পরীক্ষার পূর্বে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষকগণ, হল প্রধানগণ, নিয়োগকৃত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে সেমিনার আয়োজন করা হয়। পিএসসির কাজে গতিশীলতা আনয়নে আমরা তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। আবেদনপত্র সাবমিট, প্রবেশপত্র ডাউনলোড, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমাদান সবকিছু এখন অনলাইনে হচ্ছে। আগে লিখিত পরীক্ষার পূর্বে কাগজ জমাদানের জন্য প্রার্থীদের কমিশন ভবনে আসতে হতো। বর্তমানে তা অনলাইনের মাধ্যমে জমা নেয়া হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষার সময়সূচী, আসন বিন্যাস এবং নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল এসএমএস পদ্ধতিতে জানানো হচ্ছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সংবলিত সংরক্ষিত ডাটাবেজ রাখার মাধ্যমে ফলাফল ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে। মূলত এসকল বিষয়ে আমরা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি এবং এর সুফল হিসেবে আমরা স্বচ্ছভাবে প্রতিটি নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছি।
পিএসসি যদি তার এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে চায় তাহলে কি করতে হবে? এমন প্রশ্নে চেয়ারম্যান বলেন, পিএসসির অগ্রযাত্রা ধরে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকের আন্তরিক সহযোগিতার প্রয়োজন। বিসিএস পরীক্ষাসহ অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছভাবে স¤পাদনসহ নিয়োগের সকল পর্যায়ে পর্যাপ্ত মনিটরিং ব্যবস্থা থাকতে হবে। নিয়োগ পরীক্ষায় গতিশীলতা আনতে হবে। পিএসসি বর্তমানে যে আস্থার জায়গা তৈরি করেছে তা ধরে রাখতে হবে। পিএসসির বিজ্ঞ সদস্য ও কমিশনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে টিম হিসেবে কাজ করতে হবে। বিসিএস পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি যে, ২৬টি ক্যাডারের অর্থাৎ জেনারেল ও প্রফেশনাল সব পদের বিসিএস পরীক্ষা নিতে গেলে পরীক্ষার সময় কমানো আসলেই কঠিন। এ বিষয়ে আরও কাজ করার সুযোগ আছে। এছাড়াও বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস ও কারিকুলাম যুগোপযোগী করে পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। এই কাজটি আমরা শুরু করতাম কিন্তু করোনার কারণে তা করা সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের একটি প্রকল্প চলমান আছে যার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
এদিকে পিএসসি মহান মুক্তিযুদ্ধ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধর বিষয়ে হেঁটেছে উল্টোপথে। কিন্তু গত কয়েক বছরে এই স্থানটিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। সরকার পিএসসিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে আগারগাঁওয়ে নতুন কমিশন ভবন তৈরি করে দিয়েছে এবং নতুন ভবনের উর্ধমুখী সম্প্রসারণের কাজ প্রায় শেষের পথে। চেয়ারম্যান বলেছেন, উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতায় আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে সরকারী কর্ম কমিশনের প্রতিষ্ঠাতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল কমিশন ভবনে স্থাপন করেছি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে আমরা কমিশন চত্বরে মৃত্যুঞ্জয়ী স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছি। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রসারিত করতে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপঞ্জির ছবি ও ইতিহাস সংবলিত মুক্তির পথযাত্রা স্থাপন করেছি। ৭১ মিলনায়তন নামে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত মাল্টিপারপাস অডিটরিয়াম নতুন রূপে সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়াও বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসে বাংলাদেশ বিষয়াবলীর ২০০ নম্বরের মধ্যে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে ৫০ নম্বর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি আরও বাড়ানো যেতে পারে বলেও পরামর্শ ড. সাদিকের।
অর্জন ধরে রাখার জন্য পরামর্শ দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, পিএসসির কাজে গতি আনতে জনবল বাড়ানো জরুরী। সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখছেন। এই উন্নত বাংলাদেশে হয়তো আমরা থাকব না। কিন্তু যারা এই উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করবেন তাদের আমরা নিয়োগ করে থাকি। এজন্য পিএসসিকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা দরকার। সে কারণে পিএসসির আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতির সময় কমিয়ে আনা যেতে পারে। পিএসসিকে আর্থিক স্বাধীনতা দিতে হবে।
বিতর্কের উর্ধে থেকে পিএসসির সাংবিধানিক মর্যাদা অটুট রাখতে সরকারের করণীয় কি হতে পারে? ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন, পিএসসিকে তার সাংবিধানিক মর্যাদা ধরে রাখতে স্বচ্ছতার কোন বিকল্প নেই। এখানে যারা কাজ করবেন তাদের সব ধরনের বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হবে। যথাযথভাবে নিয়োগ পরীক্ষা স¤পন্ন করতে হবে এবং প্রজাতন্ত্রের শূন্য পদ পূরণে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।
সামনে নতুন একজন চেয়ারম্যান আসবেন। সে ক্ষেত্রে পিএসসির এই আস্থা ও স্বচ্ছতার জায়গা ধরে রাখার জন্য কি কি করা প্রয়োজন? ড. মোহাম্মদ সাদিক বলছিলেন, নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তার জন্য কাজটি খুব কঠিন হবে না কেননা পিএসসি ইতোমধ্যে একটা অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে। পিএসসির বিজ্ঞ সদস্যগণ, কমিশনের সচিব এবং সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ খুব আন্তরিকভাবে সকল কাজে সহযোগিতা করে থাকেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার যোগ্যতা দিয়ে পিএসসির আস্থা ও স্বচ্ছতার জায়গা ধরে রাখার জন্য কাজ করবেন এবং সফল হবেন। সূত্র : জনক্ন্ঠ