বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার লোড করতে চাপতে হয় ১৮০ টি ডিজিট

স্টাফ রিপোর্টার
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতে এখন ১৮০ টি সংখ্যা চাপতে হচ্ছে গ্রাহকদের। রিচার্জের জন্য ব্যাংক বা এজেন্টের কাছে টাকা জমা করলে ১৮০ ডিজিটের টোকেন নম্বর সরবরাহ করা হচ্ছে। এত বড় নম্বর মিটারে চাপতে অনেককেই হিমশিম খেতে হয়। তারপর অনেকেই জানেন না, প্রতি ২০ টি ডিজিট চাপার পর মিটারের এন্টার বোতামে (সবুজ রঙের) চাপ দিতে হয়। তাই বহু গ্রাহক বার বার চেষ্টা করেও পুরো নম্বর চাপতে না পেরে এজেন্ট ও ব্যাকগুলোতে সমাধানের জন্য ভিড় করছেন। এজেন্টরাও এতে বিরক্ত হচ্ছেন। বহু এজেন্ট এখন পারতঃ পক্ষে বিদ্যুতের অগ্রিম বিল জমা নিতে চাচ্ছেন না। তারা বলছেন, অনেকেই মিটারে নাম্বার ঢুকাতে না পেরে আমাদের কাছে আসছেন। এতে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হয়। তাই এখন যারা আসেন তাদেরকে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে টোকেন স্লিপ সংগ্রহের পরামর্শ দেই। নতুন পাড়ার বিদ্যুত গ্রাহক রতন রায় বললেন, ‘আমি মোটামুটি শিক্ষিত ব্যক্তি। কিন্তু এত বড় নম্বর চাপতে গিয়ে ভুল করে ফেলছি। তিনবারের চেষ্টায় আমি অবশেষে সফল হয়েছি। এখন যারা কিছুটা বয়স্ক ও একটু কম লেখাপড়া জানেন তাদের
অবস্থা কেমন হবে বুঝুন।’ ষোলঘরের আরেক গ্রাহক সেবিকা তালুকদার বললেন, ‘এটি ডিজিটাল পদ্ধতির ডিজিটাল বিড়ম্বনা।’ মোহম্মদপুরের বিদ্যুৎগ্রাহক আজহমান মিয়া বলেন, ‘এই মাসে এমন অদ্ভুত টোকেন নম্বর দেয়া হচ্ছে। এজেন্টরা বলেছেন, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নতুন চার্জের সাথে সিস্টেমকে খাপ খাওয়ানোর জন্য নাকি এ মাসে এত বড় ডিজিটের টোকেন নাম্বার দেয়া হচ্ছে।’ তিনি সক্ষোভে আরও বলেন, প্রিপেইড মিটারের প্রোগ্রামিং সিস্টেম নিয়ে যে আইটি প্রকৌশলীগণ কাজ করেন তারা নিশ্চয়ই গ্রাহক বিড়ম্বনার বিষয়টি বিবেচনায় আনেননি। নতুবা এমন প্রাযুক্তিক বিড়ম্বনা তৈরি করতেন না তারা।’ ষোলঘরের জুবের আহমদ বলেন, ‘আমাদের এন্ড্রয়েড মোবাইল নেই। আমাদের এনালগ মোবাইলে আসা ম্যাসেজে ১৮০ ডিজিটের নম্বর খুব ছোট আকৃতিতে দেখা যায়। মোবাইল দেখে নাম্বার চাপতে গিয়ে বারবার ভুল হয়। পরে বিদ্যুত অফিসে গিয়ে তাদের মাধ্যমে মিটার রিচার্জ করিয়েছি’। রিচার্জ এজেন্ট রণজিৎ পাল এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিদ্যুতের নতুন রেইট আসার কারণে প্রথম মাসে সকলকেই ১৮০ ডিজিট চাপতে হবে। পরের মাস থেকে আগের মত ২০ ডিজিটের টোকেন নাম্বার আসবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে’।