বিদ্যুতের প্রি প্রেইড মিটার সংযোজন নিয়ে বিভ্রান্তি

স্টাফ রিপোর্টার
শহরের বিদ্যুৎ গ্রাহকগণ পোস্ট পেইড মিটারের পরিবর্তে প্রি পিইড মিটার সংযোজনে নানা ধরনের বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। নতুন মিটার বিনামূল্যে না মূল্য দিয়ে গ্রাহকদের দেয়া হচ্ছে তা জানেন না অধিকাংশ গ্রাহকই।
পাশাপাশি পুরাতন মিটার পরিবর্তন করে নতুন মিটার স্থাপনে কোনো ধরনের অর্থ আদায়ের সুযোগ না থাকলেও কোথাও কোথাও অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের সুনামগঞ্জ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পুরাতন মিটারের স্থলে নতুন মিটার সংযোজনে অর্থ নেয়ার সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে সারা দেশে ২ কোটি ৭০ লাখ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের মিটার পোস্ট পেইডের স্থলে প্রি প্রেইড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রি প্রেইড মিটার গ্রাহকদের সরবরাহ করা হচ্ছে।
এর ধারবাহিকতায় সুনামগঞ্জের পিডিবির আওতাধীন প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। গত অক্টোবর মাসে প্রি প্রেইড মিটার সংযোজনের কাজ শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই এসব মিটার নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। মিটার পরিবর্তনের সময় বলা হচ্ছে পোস্ট পেইড থেকে প্রি পেইড মিটার নিতে কোনো ধরনের টাকা নেয়া হচ্ছে না। তবে গ্রাহকরা প্রি প্রেইড মিটার ব্যবহার করার পর অন্য সময়ের চেয়ে বেশী টাকা খরচ হচ্ছে বলে দেখতে পাচ্ছেন। বিদ্যুৎ ব্যবহার বেশী না হলেও প্রি প্রেইড মিটারে বেশি টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন।
শহরের একাধিক গ্রাহক জানিয়েছেন, আগে যে টাকার বিল আসত এখন তার চাইতে বেশী টাকা রিচার্জ করতে হচ্ছে। কিভাবে কার্ড থেকে এই টাকা ব্যয় হচ্ছে তা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। পাশাপাশি প্রতি মাসে মিটার প্রতি ৪০ টাকা ভাড়া প্রদানের বিষয়টি অবগত নন বলে জানিয়েছেন অনেকে।
পাশাপাশি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োগকৃত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন পোস্ট পেইড মিটার খোলে প্রি পেইড মিটার সংযোজন করতে টাকা আদায় করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সবার কাছ থেকে টাকা না নিলেও যেখানে সুযোগ পাচ্ছেন সেখানেই গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ টাকা আদায় করছেন তারা।
সম্প্রতি শহরের পুরাতন জেল রোডের এক ব্যবসায়ীর পোস্ট পেইড মিটার খোলে নতুন প্রি পেইড মিটার সংযোজনে নগদ টাকা চান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় দ্রুত এই এলাকা ত্যাগ করেন মিটার স্থাপনকারীরা।
তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসুবকে লেখালেখি শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকালে গণমাধ্যমকর্মী মোহাম্মদ মিজান তার নিজের ফেইসবুক পোস্টে লিখেন,‘ সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের নতুন ধান্ধাবাজী, প্রিপেইড মিটার বদলাতে ৩০০ টাকা লাগে। কিছুক্ষণ আগে জেল রোডের এক ব্যবসায়ীর নিকট এই টাকা দাবি করা হয়।’
মোহাম্মদ মিজানের ফেইসবুক পোস্টের কমেন্টে রহমত আলী নামের একজন মন্তব্য করে লিখেন,‘ শুধু তাই না অযথা কোনো কারণ ছাড়াই প্রিপেইড মিটার লক করে দিয়ে বলে লক খোলতে ৬০০ টাকা লাগবে। এগুলি জেলা প্রশাসনের দেখা উচিত।’
শহরের নতুন পাড়ার বাসিন্দা জয়ন্ত তালুকদার বলেন,‘পোস্ট পেইড মিটার খুলে নিয়ে আমাদের প্রি পেইড মিটার দেয়া হল। তাহলে মিটারের ভাড়া কেন লাগবে। মিটারের পরিবর্তে মিটার দেয়ার পর টাকা কেটে নেয়া গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ পোস্ট পেইড মিটারগুলো আমরা টাকা দিয়েই কিনেছিলাম। মিটার দেয়ার সময় ভাড়া দেয়া লাগবে তা জানানো হয়নি। ’
সুনামগঞ্জে প্রি পেইড সংযোজনকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আইডিয়াল ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সামছুননুর বলেন,‘ মিটার সংযোজনে টাকা নেয়ার কোনো নিয়ম নেই। কারো কাছ থেকে এধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি।’
সুনামগঞ্জ আবাসিক বিদ্যুৎ বিভাগের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সেলিম বলেন,‘ পুরাতন পোস্ট পেইড মিটার পরিবর্তন করে নুতন প্রি পেইড মিটার সংযোজন করতে কারো কাছ থেকে টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। তবে যতদূর জানি নতুন মিটারের জন্য প্রতিমাসে ৪০ টাকা করে ৪০ মাস মিটার ভাড়া দিতে হবে। কেউ যদি খুশি হয়ে শ্রমিকদের কিছু বকশিশ দেন সেটা অন্য কিছু।’
তিনি আরো বলেন,‘ সরকারের সিদ্ধান্তেই প্রি পেইড মিটারের পরিবর্তে পোস্ট পেইড মিটার সংযোজন করা হচ্ছে। সকল বিদ্যুৎ গ্রাহককেই প্রি পেইড মিটার নিতে হবে। পূর্বের মিটার রিডিং এর অবস্থান জানতে ও অডিটের জন্য পুরাতন মিটার খোলে অফিসে রাখা হচ্ছে। তবে কেউ চাইলে লিখিত দিয়ে মিটার নিয়ে যেতে পারেন।’