বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভালো অনুষ্ঠান করতে পারেন না শিল্পীরা

পুলক রাজ
সুনামগঞ্জের সবচেয়ে বড় সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন নিয়মিত ঘটনা। সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা ও সংস্কৃতিকর্মীদের সংগঠিত হওয়ার একমাত্র স্থান জেলা শিল্পকলা একাডেমি’র নতুন ভবন হওয়ার ফলে সংস্কৃতি চর্চায় প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। কিন্তু প্রায় প্রতিটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে বা অনুষ্ঠানের মাঝ পর্যায়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। শিল্পকলার জেনারেটরও দীর্ঘদিন হয় বিকল অবস্থায় রয়েছে। এতে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আসা অনেক দর্শক বিরক্ত হয়ে চলে যান। অনেক কষ্ট করে সাজানো অনুষ্ঠান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের শ্রম ও অর্থ ব্যয় ব্যার্থতায় পর্যবসিত হয়। ব্যাহত হয় শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার কার্যক্রম। এই নিয়ে জেলার সংস্কৃতিকর্মীদের মাঝে ক্ষোভও রয়েছে। সংস্কৃতির রাজধানীতে বিদ্যুতের আসা যাওয়ায় অনুষ্ঠান প- হওয়ার ঘটনার চেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে রক্ষা পেতে শিল্পকলাকে বিকল্প আরেকটি লাইনের সাথে যুক্ত করার দাবিও জানিয়েছেন শিল্পী-সংগঠকরা।
শহরের একতা নাট্য সংস্থার সভাপতি গৌতম কর তপন বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আমরা নানান সমস্যায় জর্জরিত হই। একটা সেটে যখন কাজ করি, তখন আমাদের ইউনিটে পঞ্চাশ জন থেকে একশ’ জন থাকে। এই টিমটা নিয়ে যখন আমরা অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে যাই, অনুষ্ঠান শুরু করব, এমন সময় দেখা যায় বিদ্যুৎ চলে গেছে, দর্শক হতাশ হয়ে চলে যান। আয়োজকদের তখন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক সময় দেখা যায় অনুষ্ঠান ৬ টায় শুরু হওয়ার কথা, কিন্তু শুরু হচ্ছে ৮ টায়।
জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিল্পকলা একাডেমীর জেনারেটর দীর্ঘদিন যাবৎ বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। যে কারণে অনুষ্ঠান করতে গেলে আমাদের কে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। একটি ভাল মানের বড় ধরনের জেনারেটর শিল্পকলার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, শিল্পকলা একাডেমি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ২টা লাইন রয়েছে। এই ২ টি লাইন যদি আমরা ব্যবহার করতে পারি, তাহলে বিদ্যুতের সমস্যা থেকে সাময়িক ভাবে রক্ষা হবে।
সংস্কৃতিকর্মী দেবাশীষ তালুকদার শুভ্র বলেন, প্রত্যেকটা সংগঠনই স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে আগে থেকেই অনুষ্ঠানের সময় জানিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুরোধ করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এত কষ্ট করে সাজানো একেকটা অনুষ্ঠান সৌন্দর্য হারায় বিদ্যুতের অভাবে। অনুষ্ঠান চলাকালীন বিদ্যুৎ চলে যায়। দর্শক মিলনায়তনে বসে গরমে হাঁসফাঁস করে। পারফর্মাররা খেই হারিয়ে ফেলেন। গত ২ আগস্ট আমাদের সত্যশব্দ’র অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ৩০ মিনিট বিলম্বে শুরু করতে হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনেকেই সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান না দেখেই চলে গেছেন। এ সমস্যার সমাধান চাই আমরা।
জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল বলেন, শিল্প সংস্কৃতির বাতিঘর জেলা শিল্পকলা একাডেমি। জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানা রকম অনুষ্ঠানে সারা বছরেই জমজমাট থাকে। জেলার একটি মাত্র আধুনিক মঞ্চে নির্বিঘেœ সুন্দর ভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করা সকলেরই একান্ত প্রত্যাশার বিষয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের শ্রম ও অর্থ ব্যয়ের মধ্যে দিয়ে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, তা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ হয়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া একটি অনুষ্ঠান সফলতার সাথে সম্পন্ন করা যায় না। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ডাবল লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন একটি আধুনিক জেনারেটর প্রয়োজন।
জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন বলেন, শিল্পকলার অভ্যন্তরীণ লাইনে অনেক সমস্যা। আমরা অভিযোগ পেয়ে কয়েকদিন মেরামতকারী দল পাঠিয়েছি, ওরা গিয়ে দেখেছে আমাদের সরবরাহ লাইনে কোন ত্রুটি নেই। দুটি লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হলে তাদের আবেদন করতে হবে। পাশে বিকল্প কোন ফিডার থাকলে ব্যবস্থা করা যাবে।