বিধিনিষেধের বালাই নেই জগন্নাথপুরে

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে মানা হচ্ছে না করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধিনিষেধ। উপজেলার প্রতিটি সড়কে যানবাহানের পাশাপাশি মানুষের ভিড় লক্ষণীয়। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবাধে চলাফেরা করছেন জনসাধারণ। ৯৯ শতাংশ মানুষ মাস্ক ছাড়া অবাধে চলাফেরা করছেন। সম্প্রতি দেশের করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জগন্নাথপুরে সংক্রমণ বেড়েছে। তবে সরকারী বিধিনিষেধ মানার বালাই নেই এখানে। ফলে করোনাভাইরাসের ঝুঁকির শঙ্কা রয়েছে।
শনিবার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাস্কবিহীন মানুষের অবাধ চলাফেরা। কোথাও কোথাও সমাগম করেই চলছে আড্ডা ও কাজকর্ম। গণপরিবহণেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। যাত্রীরা যারা আসছেন তাদের অনেকেই অসচেতন। নেই টিকার কার্ডের ব্যবহার। অনেকেই মাস্ক ব্যবহার না করেই চলাফেরা করছেন। এমনকি চালক-হেলপাররাও করছেন না মাস্ক ব্যবহার।
এছাড়া জগন্নাথপুরের প্রাণকেন্দ্র পৌর পয়েন্ট দেখা গেছে, অনেকেই মাস্ক ছাড়া ঘুরোঘুরি করছেন। উপজেলা সদরের অন্যতম ব্যস্তময় পৌর পয়েন্ট ও টিএন্ডটি রোডের রেস্টুরেন্ট, শপিংমল, সবজি বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানগুলোর সামনেও ছিলো মাস্কবিহীন মানুষের চলাচল।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অনুপম দাস অনুপ করোনায় আক্রান্ত হয়ে হোম আইসোলেশনে থাকায় মাঠ পর্যায়ে পদক্ষেপ নিতে পারছে না প্রশাসন। তবে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বিভিন্ন বাজারে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বিভিন্ন কাজে জগন্নাথপুর বাজারে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তিকে মুখে মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘টিকা দিয়েছি মাস্ক আর কেন পড়ব’। তবে, অনেকেই আবার টিকা কার্ড দেখাতে পারেননি।
জগন্নাথপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেনির ছাত্র রুম্মান আহমদ বলেন, করোনা শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তাই তো সব কিছু খোলা আর আমাদের কলেজ বন্ধ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা বিভাগে দায়িত্বরত (পিএলপিএ) আবু সাঈদ বলেন, গত এক সপ্তাহে নতুন আরও ৯ জনসহ এ উপজেলা মোট ৫৯১ জন করোনাভাইরাসে (কোভিট-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৯ জন। হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ৯ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫৬৩ জন। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, করোনার শুরু থেকে প্রশাসন মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা আক্রান্ত হয়ে হোম আইসোলেশনে রয়েছি। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ মেনে চলতে জনসচেতনতা মূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা। এমনকি মসজিদের ইমামগণ নামাজের সময় মাইকিং করছেন। আমরা সুস্থ হয়ে উঠলে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি উপজেলবাসীর প্রতি নিজ দায়িত্বে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ জানিয়েছেন। বিশেষ করে সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন।