বিপজ্জনক নাগরিক সমস্যার নাম- ধুলো ও মশা

শুকনো মৌসুমে প্রতিটি শহরের অন্যতম বিপজ্জনক নাগরিক সমস্যার নাম Ñ ধুলো। আরেকটি মশা। জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর এই দুই বিপদ নিয়েই শহরবাসীরা বসবাস করছেন। ধুলোর কারণে প্রতিনিয়ত শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ রোগবালাই বেড়ে চলেছে। ধুলোর সাথে উড়ন্ত জীবাণু নাক দিয়ে মানুষের শরীরে ঢুকে ক্ষতি ও ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্যসমস্যা তৈরির পাশাপাশি ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের অসুখ বাড়িয়ে চলেছে। মশা তো প্রাণঘাতি অসুখের কারখানা। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ডেঙ্গু রোগের জীবাণুর বাহক এই মশা। মশা ম্যালেরিয়া রোগেরও বাহক। এই দুই বিপজ্জনক উপকরণ নিয়ন্ত্রণ করতে কারও তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। মফস্বলের শহরগুলোর পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ বোধ করি জানেই না, ধুলো ও মশা নিবারণ করা তাদের দায়িত্বভুক্ত একটি কাজ। তাই প্রতিনিয়ত এই দুই শত্রুর সাথে মিতালী পাতিয়েই মানুষকে চলতে হচ্ছে অনেকটা দায়ে ঠেকে।
গতকাল জামালগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি ধুলোর বিস্তার নিয়ে একটি রিপোর্ট করেছেন। তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন, বাতাসে উড়ন্ত ধুলো রাস্তার পাশের দোকানপাটের সমস্ত দ্রব্যাদি ঢেকে দেয়। গাছগুলো ধুলোর আস্তরণে ঢাকা পড়ে নিজস্ব বর্ণ হারিয়ে ধুলোর বর্ণ ধারণ করেছে। পথচলতি মানুষ এই ধুলো নাক দিয়ে নিজের শরীরে টানছেন। তিনি যে কথাগুলো বলেছেন তা কমবেশি সব শহরের জন্যই সমান প্রযোজ্য। জেলা শহরের দিকে তাকালে ব্যতিক্রম কিছু চোখে পড়বে না। সামনের বৃষ্টির মৌসুম না আসা পর্যন্ত এই গণদুর্ভোগ চলতেই থাকবে। উন্নয়নের খেসারত দিতে হচ্ছে মানুষকে নিজের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করে। রাস্তা দিয়ে বালু, পাথর, মাটি পরিবহন করতে কেউ কোনো ন্যূনতম নিয়ম মানছেন না। দিনে ও রাতে সবসময় যথেচ্ছভাবে এইসব পণ্য প্রকাশ্য জনবহুল রাস্তা দিয়ে পরিবহন করা হয়। মানুষ যত্রতত্র এসব নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার উপরে স্তূপ করে রাখেন। এক ধরনের নির্বিকার সময়ের অধিবাসী আমরা। কাউকে নিয়ম মানানোর কোনো উপায় নেই। স্বাধীন রাজ্যে যেন সকলেই স্বাধীন নাগরিক। কিন্তু স্বাধীন নাগরিককে যে অন্য নাগরিকের সামান্যতম সুবিধা-অসুবিধা দেখতে হয় তা সকলেই বেমালুম ভুলে বসে আছেন।
পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ একটু সচেষ্ট হলে অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটাতে পারেন। এক হলোÑ নির্মাণসামগ্রীসহ বালু ও মাটি পরিবহনের কিছু নিয়মকানুন বেঁধে দিয়ে তা পালন করতে বাধ্য করা। দুইÑ অন্তত শুকনো মৌসুম দিনে দুই বেলা জনবহুল রাস্তাগুলোতে পানি ছিটানো। প্রথম কাজের চাইতে দ্বিতীয়টি অনেকটা সহজ। কেবল একটু আন্তরিক হলেই বাস্তবায়ন সম্ভব। মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য অবশ্যই এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে অলসতা ত্যাগ করতে হবে। মশক নিধনে কার্যকর উদ্যোগ থাকতে হবে। নিয়মিত মশার ঔষধ ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। মশা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মানুষের জীবন যেমন স্বস্তিতে ভরে উঠে তেমনি বহু ধরনের রোগের হাত থেকে বাঁচা সম্ভব হয়।
নাগরিক সুবিধাদির সমাহার ঘটানোর কারণে শহর এলাকায় মানুষ বসবাস করতে চায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, প্রশাসনিক ও অন্যান্য সুবিধাদির কারণেই শহর এলাকার বিকাশ ঘটে। বিকাশমান শহরকে বসবাসযোগ্য করে গড়ে তোলা রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অপরিহার্য দায়িত্ব বটে। এই দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আমাদের আকুল আবেদন, দয়া করে ধুলো ও মশা নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের শহুরে জীবনকে স্বস্তি প্রদান করুন। নিয়োজিত বা নির্বাচিত হওয়া পদের যে প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য বসেছেন তা পালন করুন। মানুষ না বাঁচলে কিসের প্রতিষ্ঠান? মানুষের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে জীবন ধারণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আপনারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসুন, এই আমাদের সনির্বন্ধ আহ্বান।