বিপাকে জগন্নাথপুরের খেটে খাওয়া মানুষ

আলী আহমদ. জগন্নাথপুর
রবিবার বেলা ১১টায় মুঠোফোনে জগন্নাথপুর পৌরশহরের শেরপুর এলাকার বাসিন্দা জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের একমাত্র পত্রিকা বিক্রেতা হকার নিকেশ বৈদ্যর ফোন। চার দিন ধরে গাড়ি না চলায় পত্রিকার বিক্রি বন্ধ। কি করে সংসার চালাব? স্ত্রী, সন্তান মা,ভাই নিয়ে তার ছয় সদস্যর পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস প্রতিদিনের পত্রিকা বিক্রি। একদিন পত্রিকা বিক্রি বন্ধ থাকলে সংসার চালানো দায়। এখন চার দিন ধরে বেকার, কবে এ সংকটের উত্তরণ হবে তা বলা যাচ্ছে না।
নিকেশ বৈদ্যর আকুতি জানিয়ে কথা হয় জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি এ প্রতিবেদক কে জানান, এউপজেলায় ১০ মেট্রিক্স টন চাল পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে ১২ পরিবার কে ১০ কেজি চাল,৫ কেজি আলু ও এক কেজি করে ডাল প্রদান করবেন। ক্রমান্বয়ে অনেকেই এধরনের সুবিধা পাবেন। হয়তো নিকেশ বৈদ্য একবার এ সুবিধা পাবেন তাহলে কি কাটবে এ সংকট থেকে উত্তরণের পথ।
শুধু নিকেশ বৈদ্য নয় এরকম অনেক খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন বিপাকে।
জগন্নাথপুর বাজারের একটি চায়ের দোকান মালিক শাহিন মিয়া। প্রতিদিন চা বিক্রি করে সংসার চালাতেন। গত গত ৬ তিন দিন ধরে তার চায়ের দোকান বন্ধ।
তিনি জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে গত ২৪ মার্চ দোকান বন্ধ করে দিয়েছি।
চা, পান আর সিগারেট বিক্রি করে পরিবারের ১০ সদস্যের সংসার চলছে আসছে। ৬ দিন ঘের দোকান বন্ধ থাকায়
চোখে তিনি শয্যফুল দেখছেন।
রেষ্টুরেন্টের কর্মচারী প্রেমতোষ দাস প্রতিদিনের আয়ের উৎস হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কীভাবে বাঁচবেন তা বুঝতে পারছেন না।
ভিক্ষুক সুলেমান বলেন, রাস্তা ঘাটে কোন মানুষ না থাকায় ভিক্ষা করেও সংসার চালানো যাচ্ছে না। এরকম অসংখ্য খেটে খাওয়া মানুষ করোনাভাইরাসের প্রভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে রাষ্ট্রের বিধি বিধান মেনে চলতে জীবিকা হারিয়ে এখন ঘরে বসে আছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে এসব খেটে খাওয়া মানুষকে ঘরে আটকে রাখা বেশি দিন যাবে না এমন কথাই ভাবতে হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব বলেন, খেটে খাওয়া মানুষরা আমাদের কাছে সাহায্যর জন্য হাত পাচ্ছেন। আমরা সাধ্যমতে সহায়তা করছি। কতদিন তাদের ঘরে রাখা সম্ভব হবে তা বলা মুশকিল। তিনি বলেন, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য আরো ভাবতে হবে।