বিপ্লবী চে-গুয়েভারা ও কমরেড ফরহাদ স্মরণে সিপিবির আলোচনা সভা

স্টাফ রিপোর্টার
বিপ্লবী চে গুয়েভারা ও বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের কিংবদন্তী কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের প্রয়াণ দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় জগৎজ্যোতি পাঠাগারে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সিপিবি’র সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার।
জেলা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এনাম আহমেদ’র সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা গণতান্ত্রিক
আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. রুহুল তুহিন, যুব ইউনিয়ন জেলা কমিটির সভাপতি আবু তাহের, ছাত্র ইউনিয়ন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদ মনি।
সভায় বক্তারা বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকান্ডে তীব্র হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আবরারের লাশই বর্তমানে দেশের প্রতিচ্ছবি। দেশ বর্তমানে চরম সংকটে রয়েছে। সরকারি ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ দেশে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। দেশের সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগ দখল করে রেখেছে। কোথাও শিক্ষার কেনো পরিবেশ নেই। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। তারা নিজেরা চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি ভাগ ভাটোয়ারার টাকা নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত। কেউ প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। যার সর্বশেষ শিকার বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার। সরকারের আসকারা না থাকলে ঘাতক চক্রের এমন বেপরোয়া হওয়ার দুঃসাহস থাকতো না। বিগত দিনের সন্ত্রাসের বিচার না হওয়ায় বর্তমানে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা অবিলম্বে সকল অপরাধীদের গ্রেফতার ও দলীয় লেজুর থেকে ছাত্র সংগঠনগুলোকে মুক্ত করে তাদের সত্যিকারের ছাত্র সমস্যা ভিত্তিক ছাত্র আন্দোলনের যুক্ত হওয়ার আহবান জানান।
দেশে ক্যাসিনো, লুটপাট, বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের রুখে দাড়ানো জন্য যুব সমাজের প্রতি আহবান জানানো হয়। দলীয় ছত্র- ছায়ায় হাসপাতাল, ব্যাংক, পরিবহন, বিমান সর্বত্র লুটপাট করে দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড ভেঙে দেয়া হচ্ছে।
সভায় বক্তারা বিপ্লবী চে-গুয়েভারা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের মহা প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
১৯২৮ সালে ১৪ জুন চে জন্ম গ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি মোটর সাইকেলে দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণের সময় তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষকের চরম দারিদ্রতা দেখে মর্মাহত হন। বিপ্লবী চে মনে করতেন একচেটিয়া পুঁজিবাদ ও সা¤্রাজ্যবাদের একমাত্র সমাধান হল বিশ্ব বিপ্লব। কিউবা বিপ্লবে চে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অপর দিকে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ ৬২’র গণ আন্দোলণ, তারপর মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি নেতৃত্ব দেয়া সর্বশেষ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। দেশের বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বর্তমান কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের মতো নেতার বড় বেশি প্রয়োজন বলে বক্তারা মনে করেন।