বিব্রত জামালগঞ্জ ও শাল্লা আ.লীগের নেতা কর্মীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার দুই উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন দলের নেতা কর্মীরা। এই দুই উপজেলার নেতা কর্মীরা দলীয় প্রার্থী এবং দলের বিদ্রোহী প্রার্থীকে ঘিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২ বারের চেয়ারম্যান ও ৫ বারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদকে। ইউসুফ আল আজাদের পরিবারের সদস্যদের সকলেই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও উল্লেখ করার মতো ভোট পেয়েছিলেন তিনি। এবার আওয়ামী লীগ তাঁকে দলীয় প্রার্থী করেছে।
আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ইউসুফ আল আজাদ বলেন,‘দলের উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দল ও নৌকার প্রতি আন্তরিক সকলেই আমাকে সহযোগিতা করছেন।’
অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি, সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম এই উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। রেজাউল করিম শামীম ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ৩ মেয়াদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগের উপজেলা সভাপতি, জেলা কমিটির সহসভাপতি, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেবার আগে সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম শামীম বলেন,‘উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির ৬৬ জনের মধ্যে ৫৫ জনই আমার সঙ্গে রয়েছেন। বিগত নির্বাচনে ৭৭৩ ভোটে পরাজিত হয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলাম। আমি নির্বাচন করছি আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নিয়েই।’
শাল্লা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদকে। তিনি সংগঠনের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
চৌধুরী আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ জানিয়েছেন,‘সংগঠনের উপজেলা কমিটির একজন সহসভাপতি ছাড়া কমিটির সকলেই নৌকার পক্ষে রয়েছেন।’
এই উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাস। অবনী মোহন দাস জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং এর আগে শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
অবনী মোহন দাস বলেন,‘শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুছ ছত্তার, সদস্য সোলেমান মিয়াসহ অনেকেই আমার পক্ষে কাজ করছেন।’
এই উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতা নাম না ছাপার অনুরোধ করে বললেন,‘‘বেকায়দায় পড়েছি আমরা। একজন নৌকা নিয়ে এসেছেন, আরেকজন আওয়ামী লীগের বড় নেতা। এখন ‘শ্যাম রাখি না কূল রাখি’ অবস্থায় পড়েছি।’’
জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম নবী হোসেন বলেন,‘ নেতা কর্মীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। এখন প্রচার দেওয়া হচ্ছে, নৌকা প্রতীক ছাড়াও যারা দলের প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের প্রার্থী থাকতে বাধা নেই। এই প্রচারে বিভ্রান্তি বেড়েছে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘এই বিষয়ে দলীয় কোন নির্দেশনা এখনও পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ বলছেন দলীয় সিদ্ধান্ত এখন উন্মুক্ত হয়েছে। কিন্তু এটি আমাদের ফরমালি এখনও জানানো হয়নি।’