বিশ্বকাপের স্মৃতি

এনাম আহমদ
(পূর্ব প্রকাশের পর)
৯০ এ ব্রাজিলকে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে জিতে শেষ পর্যন্ত ফাইনালেই চলে যায়! তবে সেমিফাইনালে দলের ২য় তারকা ক্যানিজিয়াকে রেফারি বিতর্কিত ভাবে হলুদ কার্ড দেখালে ক্যানিজিয়া আর ফাইনালে খেলতে পারেননি। এতে ম্যারাডোনা মাঠে পুরোপুরি একা হয়ে যান। এরপরেও ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির সাথে আর্জেন্টনা সমানতালে লড়ে যায়। কিন্তু খেলার ৮৫ মিনিটে আবারো বিতর্কিত ভূমিকায় নামেন রেফারি! আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সের ভেতরে জার্মানির একজন খেলোয়াড় পড়ে গেলে রেফারি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে পেনাল্টির নির্দেশ দেন! এখনও কেউ ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন, ঘটনাটি পেনাল্টি ছিলো কী—না! ঐ এক গোলেই আর্জেন্টিনা হেরে যায় ফাইনালে। খেলা শেষে ম্যারাডোনার কান্না ছোঁয়ে যায় কোটি কোটি ভক্ত—সমর্থকদের হৃদয়ে। এটি কোটি বাঙালির কোমল হৃদয়কেও স্পর্শ করে এবং অন্যায়ভাবে বঞ্চিত আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন পাকাপোক্ত হয়।
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে ফুটবল খেলা খুব একটা জনপ্রিয় না। বিভিন্ন জরিপে দেখা গিয়েছিল, সেখানকার অধিবাসীরা জানেনই না যে তাদের দেশে বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হচ্ছে! সেবারের বিশ্বকাপটি ছিলো কিছুটা সাদামাটা। ফাইনালে ব্রাজিল ও ইটালির খেলা নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ভাবে শেষ হয়। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ট্রাইব্রেকারে ইটালিকে ৩—২ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে। ৯৮ সালের বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠিত হয় ফ্রান্সে। আসরটি ছিল বেশ জমজমাট। ফ্রান্স নিজেই ছিল হট ফেবারিট। দলের তারকা খেলোয়াড় জিনেদিন জিদান ফর্মের তুঙ্গে! ফ্রান্স শৈল্পিক ফুটবল খেলে ফাইনালে উঠে এবং ব্রাজিলকে ৩—০ গোলের পরিষ্কার ব্যাবধানে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো এশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যৌথভাবে এ বিশ্বকাপের আয়োজন করে। এই বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করে। ফাইনালে ব্রাজিল জার্মানিকে ২—০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে। ২০০৬ সালে আয়োজক দেশ হয় জার্মানি। তাদের আয়োজনটি ছিল চমৎকার। সেবার ফ্রান্সের জিনেদান জিদানের সেই বিখ্যাত হেডের ঘটনা ঘটে। সেবারের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ইটালি ও ফ্রান্সের মধ্যে। জমজমাট ফাইনাল ম্যাচ ছিলো এটি। কিন্তু হঠাৎ ঘটে ছন্দ পতন। ইটালির মাত্তারাজ্জি মাঠে জিদানকে স্লেজিং করলে জিদান মেজাজ ধরে রাখতে না পেরে মাত্তারাজ্জিকে মাথা দিয়ে ঢুস দেন। রেফারি জিদানকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। ফ্রান্স খেলার তাল আর ধরে রাখতে পারে না। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১—১ গোলে অমিমাংসিত থাকে। শেষে ইটালি ট্রাইব্রেকারে ৫—৩ গোলে ফ্রান্সে পরাজিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। (চলবে)
লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।