বিশ্বকাপে প্রযুক্তি

সু.খবর ডেস্ক
এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ যেন আগাগোড়া প্রযুক্তিতে মোড়া। খেলোয়াড়দের শরীরেও যুক্ত থাকবে বিশেষ সেন্সর, যা তাঁদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে। ১৯৮৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ বলেই ‘ঈশ্বরের হাত’ দিয়ে গোল করতে পেরেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। বর্তমানে হলে তা কি আর সম্ভব হতো? তাই বলা চলে, প্রযুক্তি শুধু বিশ্বকাপ দেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দেয়নি, কখনো কখনো বদলে দিচ্ছে ম্যাচের ফলও। আর বিশ্বকাপে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ইতিহাসে সবচেয়ে জাঁকালো ছিল ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপ। সেবার অনলাইনে প্রায় ২৮ কোটি দর্শক ফাইনাল ম্যাচ দেখেছেন। শুধু টুইটারে ৬৭ কোটিবার ‘বিশ্বকাপ’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন বিশ্ববাসী। এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপ সেসব ইতিহাস বদলে ফেলতে চাইছে। আর তা প্রযুক্তির সাহায্যেই। মাঠের ভেতরে প্রযুক্তির মূল কাজ হলো রেফারিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করা। গত বিশ্বকাপের গোললাইন প্রযুক্তির সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে ‘ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি’।
ফুটবলের থার্ড আম্পায়ার
গত বিশ্বকাপে গোললাইন প্রযুক্তির সাফল্যের পর প্রযুক্তির আরও সাহায্য নেওয়ার দাবি জানান ফুটবলভক্তরা। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল সিদ্ধান্ত নিতে রেফারিকে সাহায্য করতে। আর তাই নতুন প্রযুক্তির খোঁজে নামে ফিফা। প্রায় দুই বছর ধরে কয়েক শ ম্যাচে পরীক্ষা চালানোর পর এ বছরের মার্চে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নামের প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। রাশিয়াতেই প্রথমবারের মতো রেফারিকে সাহায্য করবে ভিএআর। প্রযুক্তিটি অনেকটা ক্রিকেটের থার্ড আম্পায়ারের মতো। পর্দার সামনে একদল রেফারি বসে থাকেন। তাঁরা ভিডিও ফুটেজ দেখে পরীক্ষা করে মাঠের রেফারিকে তথ্য জানান। মূল রেফারি তাঁদের কথার ওপর নির্ভর করতে পারেন, চাইলে নিজেও ভিডিও ফুটেজ পরখ করে দেখতে পারেন। ফুটেজ দেখে মূল রেফারির যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা-ই চূড়ান্ত। যে যে ক্ষেত্রে ভিএআর ব্যবহার করা যাবে:
গোললাইন প্রযুক্তি
২০১৪ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের করিম বেনজেমা প্রথম গোললাইন প্রযুক্তির সুবিধা নেন। হন্ডুরাসের বিপক্ষে তার করা গোলটি কয়েক মিলিসেকেন্ডের জন্য গোল সীমা অতিক্রম করেই বেরিয়ে আসে। সাধারণ ক্যামেরায় তা ধরা না পড়লেও গোললাইন প্রযুক্তির সাহায্যে রেফারির হাতঘড়িতে ঠিকই বার্তা পৌঁছে যায়। দুটি পদ্ধতিতে গোললাইন প্রযুক্তি কাজ করে। হক-আই এবং গোলরেফ। গোলরেফ প্রযুক্তিতে বলে সার্কিট যুক্ত থাকে। বল গোলপোস্টের মাঝের গোললাইন পার হলেই তড়িৎ চুম্বকীয় মান বদলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটার রেফারিকে জানিয়ে দেয়। আর হক-আই প্রযুক্তিতে ১৪টি উচ্চগতির ক্যামেরা সব সময় গোললাইনে নজর রাখে। বল সে রেখা অতিক্রম করলে মুহূর্তেই রেফারির স্মার্টঘড়িতে সংকেত চলে যায়।
কোচের জন্যও থাকবে প্রযুক্তি
রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বেশ রাখঢাক ছিল। সম্প্রতি তার কিছু প্রকাশ করে ফিফা। এমন একটি প্রযুক্তি হলো ইলেকট্রনিক পারফরম্যান্স অ্যান্ড ট্র্যাকিং সিস্টেমস (ইপিটিএস)। এ প্রযুক্তি দলের কোচকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে। দুই দলের কোচের জন্যই এ সুবিধা রাখা হবে। দুটি ক্যামেরার মাধ্যমে দুই দলের খেলোয়াড় ও বলের গতিবিধি ধারণ করা হবে। সেই ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য ইপিটিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি পাঠানো হবে দুই দলের নির্ধারিত ফুটেজ বিশ্লেষক ও চিকিৎসক দলের কাছে। এ তথ্যগুলো দলের কোচ জানতে পারবেন। ম্যাচ চলাকালে বিশেষ কিংবা জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে এ তথ্য ব্যবহার করবেন তাঁরা।
খেলোয়াড়দের পর্যবেক্ষণে সেন্সর
খেলার সময় ইপিটিএস প্রযুক্তিতে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও গতিবিধির সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করতে পরিধেয় ডিভাইসের আবশ্যকতা ছিল। প্রথমে সমর্থন না করলেও নীতিমালা বদলে এমন ডিভাইসের ব্যবহারের অনুমোদন দেয় ফিফা। তৈরি করা হয় বিশেষ ফিটনেস ট্র্যাকার। ট্র্যাকারগুলো খেলোয়াড়দের বুকে ও পিঠে ব্যবহার করতে হবে। এবারের আসরের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে ইতিমধ্যেই খেলোয়াড়েরা এ ডিভাইসগুলো ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। ডিভাইসগুলো রিয়েল টাইম খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও গতিবিধি ধারণ করতে সক্ষম।
ঘরে বসে মাঠের আমেজ
ঘরের দর্শকদের মাঠের অনুভূতি দিতে এবারের বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি ভার্চ্যুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) প্রযুক্তিতে এবং ফোরকে রেজল্যুশনে স্ট্রিম করবে বিবিসি স্পোর্টস। যাঁরা ভিআর হেডসেট পরে খেলা দেখবেন, তাঁরা শব্দেও পাবেন মাঠের আবহ। আর টিভিতে ফোরকে রেজল্যুশনে খেলা দেখতে চাইলে থাকতে হবে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ।