বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে দুশ্চিন্তায় দুই শিক্ষার্থী

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের দুই মেধাবী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও দারিদ্রতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়ালেখার খরচ জোগানোর দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যরা উচ্চ শিক্ষার ব্যয়ভার নিয়ে শংকায় ভোগছেন।
জানা গেছে, উপজেলার শাহজালাল মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করে কলকলিয়া ইউনিয়নের কালিটেকি গ্রামের দোকান কর্মচারী প্রানেশ দেবনাথের ছেলে প্রবেশ দেবনাথ ও একই ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামের সাবু মিয়ার ছেলে শায়েক মিয়া। তারা সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদন করেন। তাদের মধ্যে প্রানেশ দেবনাথ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হন। অপরদিকে শায়েক আহমেদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় ভর্তির সুযোগ পান।
প্রবেশ দেবনাথ জানান, দুই ভাই এক বোনসহ তাদের ছয় সদস্যর পরিবারের একমাত্র আয়ের মানুষ তাঁর বাবা। কলকলিয়া বাজারে এক মুদি দোকানের কর্মচারী তিনি। বাবার অল্প আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি তিন ভাই বোনের পড়ালেখার খরচ চালানো দূরূহ। ফলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও ভর্তির টাকা ও থাকা খাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
একই ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামের শিক্ষার্থী শায়েক মিয়া বলেন, ৪ ভাই ১ বোনসহ ১০ সদস্যর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি তার বাবা একজন বর্গাচাষী হিসেবে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির সুযোগ পেলেও খুব দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
দোকান কর্মচারী প্রনেশ দেবনাথ বলেন, অনেক কষ্ট করে অভাব অনটনের সাথে সংগ্রাম করে ছেলে প্রবেশ দেবনাথ এসএসসি, এইচএসসি তে ভাল ফলাফল করে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে এরচেয়ে আনন্দ আর কি হতে পারে।কিন্তু পড়ালেখার খরচ জোগানোর দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম শেষ হয়ে গেছে। কৃষক সাবু মিয়া বলেন, ছোট বেলা থেকে ছেলে পড়ালেখায় ভালো হওয়ায় তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। এখন ছেলেকে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে পড়াব বুঝে উঠতে পারছি না। অর্থাভাবে আমার স্বপ্ন ও ছেলের উচ্চ শিক্ষা থেমে যেতে পারে এ চিন্তায় ভুগছি।
শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এম এ মতিন বলেন, আমার কলেজের দুই শিক্ষার্থী প্রবেশ দেবনাথ ও শায়েক মিয়া দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাওয়ার আমরা আনন্দিত। সমাজের শিক্ষানুরাগী বিত্তবান ও ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসলে এই শিক্ষার্থীরা একদিন সমাজকে আলোকিত করবে বলে আমি দৃঢ় আশাবাদী।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব বলেন, দরিদ্র পরিবারের মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর বিষয়টি জেনেছি তাদের সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ থেকে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব।