বিশ্বম্ভরপুরে অপরিকল্পিত ধামালিয়া’র খনন বন্ধ করা হয়েছে

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুরের হাওরে অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন করা হচ্ছে। হাওরপাড়ের গ্রামবাসী বলেছেন,‘খালের মাঝ দিয়ে খনন না করে, কোথাও কোথাও একপাড় দিয়ে কাটা হচ্ছে খাল, যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে মাটি, ঠিকাদাররা অর্থ সাশ্রয় করতে গ্রামকে ফেলে দিচ্ছে হুমকিতে।’ বৃহস্পতিবার বিশ্বম্ভরপুরের ধামালিয়া খাল খনন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস।
৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট ছোট নদী খাল এবং জলাশয় (প্রথম পর্যায়) খননের অংশ হিসাবে পাহাড়ী ঢল বা বৃষ্টির পানি যাতে করচার হাওরের ফসলি জমি প্লাবিত না করে এবং হাওরের পানি ঘটঘটিয়া ও রূপসা নদী হয়ে সুরমায় প্রবাহিত হয় সেজন্য দুই কোটি ৯২ লাখ ৭ হাজার ৮২৩ টাকা ব্যয়ে ধামালিয়া খাল খনন করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক এবং রাজনীতিবিদরা দাবি করছেন ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল কোথাও কোথাও অপরিকল্পিতভাবে খনন করা হচ্ছে।
কাছিরগাতি, মুক্তিখলা, পুরানগাঁও ও পলাশ ইউনিয়নের কিছু অংশ হয়ে রাজারবান্দ পর্যন্ত খনন করা হবে এই খাল। করচার হাওরপাড়ের বিশ্বম্ভরপুরের কৃষ্ণতলা গ্রামের বাসিন্দা রিপন বর্মণ বলেন,‘গত ৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই খাল খননকালে হাওরপাড়ের কৃষ্ণনগর গ্রামের পাশের অংশে এসে পূর্বপ্রান্ত অর্থাৎ গ্রামের অংশ থেকে মাটি তোলে পশ্চিমপাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি (এক ব্যক্তির জমি) ভরাট করে দেওয়া হচ্ছে। তাতে পাহাড়ী ঢল বা নদী ভরাট হবার পর কৃষ্ণনগর গ্রাম ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। বুধবার গ্রামবাসী এভাবে অপরিকল্পিত খাল খনন বন্ধের দাবি জানান, না হয় কাজ আপাততবন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। কিন্তু গ্রামবাসীর অনুরোধ আমলে নেননি ঠিকাদারের লোকজন।’
বিশ্বম্ভরপুরের কৃষক সফিক মিয়া বলেন,‘খাল খননের সময় কোন কোন স্থানে সরকারি খাস খতিয়ানের জমির দিকে না কেটে কৃষকের রেকর্ডিয় জমির দিকে কাটা হচ্ছে। এগুলো খেয়াল রাখা জরুরি ছিল।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বর্মণ বলেন,‘খাল খনন করা হবে নদীর মাঝ বরাবর, কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন গ্রামের পাশ দিয়ে খনন করছে, মাটি তুলে আনছে উল্টো দিকে। এ কারণে গ্রামবাসী হুমকির মধ্যে পড়বে। এটি কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকার বরাদ্দ দিয়েছে মানুষের উপকারের জন্য, অসতর্কতায় কারো ক্ষতি করা যাবে না।’
বুধবার দুপুরে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই বিষয়টি উত্থাপন করেন স্থানীয় গণ্যমান্যরা।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস সরেজমিনে ধামালিয়া খাল খনন কাজ দেখতে যান। তিনি কৃষ্ণনগর এলাকায় গিয়ে খালখনন এবং মাটি ফেলার অবস্থা দেখে বলেন,‘গ্রামবাসীর দাবির বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে। মানুষের উপকারের জন্যই নদী খনন করা হচ্ছে, কারো ক্ষতি করে সেটি করা যাবে না। প্রয়োজনে শ্রমিক লাগিয়ে গ্রামবাসীর পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে হবে।’
খাল খনন কাজের ঠিকাদার অসিম সিংহ’এর পক্ষে কাজ দেখভাল করছেন প্রকৌশলী আবু নাসের। তিনি বলেন,‘কাজ শুরু হবার পর থেকে তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন পাউবো’র উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মুনসুরুর রহমান। তিনি যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেভাবেই কাজ হচ্ছে। কৃষ্ণনগর গ্রামের পাশের খাল খননের সময় পূর্বপাশে খনন করে পশ্চিমাংশে মাটি ফেলা হচ্ছে এটি সত্য। কিন্তু এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কাটলে এছাড়া কোন বিকল্প নেই। গ্রামের পাশে কাদামাটি। ২৮-৩০ টন ওজনের এক্সভেটর কাদামাটি দিয়ে চলবে না। গ্রামবাসী যেভাবে কাজ করার কথা বলছেন, সেভাবে করতে হলে শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে হবে।’
উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মুনসুরুর রহমান বলেন,‘গ্রামবাসীর দাবি অনুযায়ী কাজ করাতে হলে শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে হবে। এক্ষেত্রে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন,‘খাল খনন সতর্কতার সঙ্গে করা হচ্ছে। কারো ক্ষতি করে কাজ হচ্ছে না। অপরিকল্পিতভাবেও কিছুই করা হচ্ছে না। কৃষ্ণনগরের অংশটুকু প্রয়োজনে এক্সকেভেটর দিয়ে না করে, শ্রমিক দিয়ে করা হবে।’