বিশ্বম্ভরপুরে নিন্মাঞ্চলে পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় গত কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলে পানিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় উপজেলার নিন্মাঞ্চলের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্বিসহ জীবন কাটাছেন।
ফতেপুর ইউনিয়নে এবং পলাশ, বাদাঘাট (দ.) ও সলুকাবাদ ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল এবং গ্রামগুলোর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার ডুবে গেছে। বন্যায় ইউনিয়ন পরিষদ সহ উপজেলা পরিষদের সাথেও যোগাযোগ ব্যাহত হচ্চে।
বন্যায় উপজেলা প্রসাশন, উপজেলা পরিষদ, থানা পুলিশ প্রসাশন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা প্রেসক্লাব, উপজেলা ভূমি অফিস সহ সরকারি আবাসিক এলাকায় হাঁটু সমান পানি। বন্যার ফলে বন্ধ রয়েছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
উপজেলা সদর, কৃষ্ণনগর, বিশ্বম্ভরপুর, মুক্তিখলা, মল্লিকপুর, শ্রীধরপুর গুচ্চু গ্রাম, সোনাপুর, লক্ষ্মীপুর, ব্রজনাথপুর, রায়পুর, বাহাদুরপুর, প্যারীনগর, পদ্মনগর, ধরেরপাড়, বাগগাঁও, ফতেপুর, নওয়াগাঁও, খলাচানপুর, গোপালপুর, বারকুলি, নয়াবরুঙ্গা, কৌয়া, দূর্গাপুর বাগমারা, ভাটিপাড়া, শক্তিয়ারখলা, সিরাজপুর, সাতগাঁও, ভাদেরটেকসহ বিভিন্ন গ্রামের বাড়ি ঘরে পানি উঠেছে। গরু-বাছুর সহ জানমাল নিয়ে খুবই বিপদে রয়েছে লোকজন। বন্যায় অনেক কাচা ঘর বাড়ি, পুকুরের মাছ রাস্তাঘাট, গো-খাদ্য ক্ষতি হচ্ছে। বুধবার বিকালে এই রির্পোট লেখা পর্যন্ত বাড়ছিল পানি । এ ভাবে চলতে থাকলে ভয়াবহ বন্যার আশংকা রয়েছে।
পলাশ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম বলেন, ‘বন্যায় উপজেলা সদর সহ আমার ইউনিয়নের নি¤œ অঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।’
ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ১০/১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।’
শক্তিখলার গ্রামের সালেহ আহমদ বলেন, ‘বন্যায় আমার পুকুরের লক্ষাধিক টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।’
উপজেলা সদরের কম্পিউটার ব্যবসায়ী শাকিল আহমদ বলেন, ‘বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করায় দোকানের বন্ধ রয়েছে।’
উপজেলা আওমায়ী লীগ সহ-সভাপতি মো. মহরম আলী বলেন, ‘বন্যায় সলুকাবাদ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে কাচা ঘর বাড়ির ক্ষতি হয়েছে এবং শ্রাবণী ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস বলেন, ‘পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ সহ আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’