বিশ্বম্ভরপুরে বেড়েছে বাঁশের কদর

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাওর অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে কুটির শিল্পজাত দ্রব্যাদি তৈরিতে বাঁশের কদর বেড়েছে। এতে বাজারে বাঁশের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই উপজেলার হাওর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে মাছ ধরার গুই, চাঁই, রুঙ্গা তৈরী করে তা বিক্রি করা হয়। এসমস্ত গুই, চাঁই, রুঙ্গা দিয়ে বর্ষায় হাওরে টেংরা, চিংড়িসহ ছোট মাছ ধরা হয়।
উপজেলার হাওর এলাকার ব্রজনাথপুর, গোপালপুর, চান্দারগাঁও, লক্ষ্মীপুর, রাজনগর, ফুলভরীসহ বিভিন্ন গ্রামে ৮ শতাধিক পরিবার এই পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ১০ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত নারী-পুরুষরা এসমস্ত কুটির শিল্প জাত দ্রব্যাদি তৈরি করে বর্ষায় বাড়তি রোজগার করেন।
মাছ ধরার উপকরণ তৈরি করতে বাঁশ, বেত, সুতা, প্লাষ্টিকের কাগজ প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বাঁশ হচ্ছে মূল উপকরণ। দিন দিন এ কাজ বেড়েই চলেছে এবং নতুন নতুন এলাকাতেও এ কাজের সম্প্রসারণ ঘটছে। বাঁশ পাইকার ব্যবসায়ী করম আলী ও চাঁন মিয়া জানান, এখন আর বাঁশ উপজেলার বাইরে নিয়ে বিক্রি করতে হয় না। বিশ্বম্ভরপুর বাজারসহ এলাকাতে আমরা প্রচুর বাঁশ বিক্রি করছি। পূর্বে সাচনাবাজার, ছাতক, ভৈরব, আজমিরিগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় বাঁশ বিক্রি করতাম। এখন তা আর করতে হয় না।
ব্রজনাথপুর গ্রামের মোহন লাল বিশ্বাস বলেন, ‘বাজার থেকে বাঁশ কিনে বাড়ি নিয়ে কেটে অন্যান্য উপকরণ দিয়ে এসমস্ত চাই, গুই বানাই। এবছর বাঁশের দাম বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ইজারাদাররা বাঁশের টুল বেশী আদায় করছে। এতে আমাদের কিছুটা হয়রানির শিকার হতে হয়।’
গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘গ্রামের প্রতিটি মানুষই চাই, গুই তৈরি করে বাড়তি উপার্জন করছে। অনেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসাকে আরো জোরদার করছেন।’
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জগন্নাথ বিশ্বাস জানান, হাওর পাড়ের ৬/৭টি গ্রামের প্রায় সব পরিবারেই এ কাজ করে বর্ষায় বেকারত্ব দূর করা হয়। এ গুই, চাই, রুঙ্গা স্থানীয় ভাবে বিক্রি ছাড়াও দিরাই, সুনামগঞ্জ, বিশ্বনাথ, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে পাইকাররা নিয়ে যায়।
হাওর অঞ্চল ছাড়াও ধনপুর ইউনিয়নের সুরেশনগর, রাজনগর, বেতাগড়া, চিনাকান্দি এবং সলুকাবাদ, পলাশ, বাদাঘাট (দঃ) ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বাঁশ বেত দ্বারা টুকরি, ধাড়ী, কূলা, ঢুলি, ঘরের সিলিং ইত্যাদি বানানো হয়। তাছাড়া হাওর এলাকায় বর্ষা ও বন্যা থেকে বাড়ি ঘর রাস্তাঘাট সুরক্ষায় বাঁশের চাহিদা বাড়ছে।