বিশ্বম্ভরপুরে বোরো ধান কাটা শুরু

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় হাওরে বোর ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে ধান কাটায় শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে বলে কৃষকরা মনে করছেন। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে বোর ধানের কিছু ক্ষতি হচ্ছে। বুধবার উপজেলার খরচার হাওরের মুক্তিখলা গ্রামের রইছ আলী ৩ কেদার ও কৃষ্ণনগর গ্রামের শিবলু বর্মন ৫ কেদার, জিতেন্দ্র বর্মন ২ কেদার বোর ধান কেটেছেন। তারা বলেন, ‘গত বছর
সমস্ত ফসলহানির পর এ বছর আজ প্রথম বোর ধান কাটছি। খরার কারণে ২৮ ধানের কিছু ক্ষতি হয়েছে।’ এদিকে অন্যান্য হাওরেও কয়েকজন কৃষক কিছু কিছু ধান কেটেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বৃহৎ খরচার হাওর, আঙ্গারুলী হাওর, পুটিয়ার হাওর এবং শনির হাওর ও হালির হাওরের উপজেলার আংশিকসহ ১১,৩৫০ হেক্টর বোর ধান চাষাবাদ হয়েছে। এরমধ্যে হাওর অঞ্চলে ৭,৭৫০ হেক্টর ও হাওর বহিভূত স্কীমের আওতায় ৩,৬০০ হেক্টর। বোর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা চালের হিসাবে ৩৯ হাজার ২শত ৮৮ মে.টন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার দাশ বলেন, ‘হাওরে বোর ধান পাকা শুরু হয়েছে। আশা করা যায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো দমে ধান কাটা শুরু হবে। এরমধ্যেই কয়েকজন কৃষক কিছু কিছুৃ ধান কেটেছেন।’
হাওরে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্তের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা কৃষকদেরকে জরুরী ভিত্তিতে ঔষধ ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস বলেন, ‘এবছর ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজ সময়মত এবং পরিপূর্ণভাবে উপজেলার ৪১টি পিআইসির মাধ্যমে করা হয়। খরচার হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। অন্য হাওরেও ধান পাকতে শুরু করেছে, আশা করা যায় প্রাকৃতিক বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটলে কৃষকরা তাদের সোনার ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ বলেন, খরচার হাওরে কয়েকজন কৃষক বোর ধান কেটেছেন আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে।