বিশ্বম্ভরপুর সদর পোস্ট অফিসের বেহাল দশা

সালেহ আহমদ, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর সদর পোস্ট অফিসের দু’তলা ভবন যে কোন মুহূর্তে ধসে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা সদরে অবস্থিত জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি পোস্ট অফিসটি প্রায় এক যুগ পূর্বে পাকা খুঁটির উপর ঝুলন্ত অবস্থায় নির্মাণ করা হয়েছিল। নীচে অফিস উপরে বাসভবন। নির্মাণ কাজ নি¤œ মানের হওয়ার দরুন কয়েক বছর পূর্বেই ভবনের ছাদ চুয়ে পানি পড়া শুরু হয়। এখন ছাদের প্লাষ্টার খসে পড়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দরজা জালানা ও গ্রীলগুলো কোন রকম আটকে রাখা হয়েছে। মেইন রোড থেকে পোস্ট অফিসের সংযোগ রক্ষাকারী সেতুর পশ্চিমাংশ দেবে গিয়েছে। পোষ্ট অফিসটি নির্মাণের পর থেকে অদ্যবধি কোন রকমের সংস্কার বা মেরামতের কাজও হয়নি। পোষ্টমাষ্টার থাকার জন্য দু’তলা ভবনটি অবস্থাও খুবই খারাপ। চতুর্দিকের দরজা জানালার কাঁচ ভাঙ্গা। দরজা ভাঙ্গা ওয়াল ও ফ্লোরসহ সিঁড়ির আস্তর প্লাষ্টার খসে পড়ে গেছে। এদিকে এখনও পোষ্ট অফিসেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রীসহ যুবক যুবতীরা প্রতিদিন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
পোষ্ট মাষ্টার লেপক রঞ্জন তালুকদার জানান, ২০০৫ সালে ডাকঘরের ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। এর পর থেকে ভবনটি কোন প্রকার মেরামত ও সংস্কার করা হয়নি। সম্ভবত পুরো ভবনের কাজটাই নি¤œমানের করা হয়েছি। এজন্যই এত অল্প দিনেই ভবনের বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি চুয়ে শেওলা যুক্ত হয়ে ছাদ ওয়াল ও প্লাষ্টার নষ্ট হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দুতলায় আমার জন্য সরকারি ভাবে বাসা বরাদ্দ থাকলেও বসবাস করার অনুপযোগী বিধায় না থেকেও প্রতি মাসে আমার বেতন থেকে বাসা ভাড়া কর্তন করা হচ্ছে। ভবনের নিচ দিয়ে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। সামনের ব্রীজটি দেবে গিয়েছে। যে কোন মুহূর্তে ঝুলন্ত ডাকঘর ভবনটি ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভবনের দুরাবস্থার কথা কয়েকবার লিখিত আকারে বিভাগীয় প্রধানের কাছে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় আমার নিজের পকেটের টাকা দিয়ে পানির লাইন মেরামত, মটর ক্রয়সহ বৈদ্যুতিক ওয়ারিং করে কোন রকম অফিস চালিয়ে যাচ্ছি।