বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত/ প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় ১০ দাবি

‘একটাই পৃথিবী, একটাই বাংলাদেশ- চাই আইন ও নীতির কার্যকর প্রয়োগ ও সুরক্ষিত পরিবেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পালিত হয়েছে বিশ্বপরিবেশ দিবস।
রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সহ বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
সহকারী কমিশনার দীপংকর বর্মন (সাধারন শাখা) এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, সুশিল সমাজ, ইয়েস সদস্যবৃন্দ।
সভায় বক্তারা পরিবেশ দিবসের গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন যে, আগামীর বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য বাসযোগ্য করার জন্য আমাদেরকে এখন থেকে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আমাদেরকে আমাদের নিজ থেকে শুরু করতে হবে। প্রথমে পরিবার, তারপর গ্রাম এভাবে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। স্থানীয় ভাবে সুনামগঞ্জের পরিবেশগত দিক বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করা করতে হবে।
সভায় অন্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আরিফুর রাহমান। তিনি প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় শুদ্ধাচার নিশ্চিতে টিআইবি’র নি¤েœাক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করেন-
১. বন ও জলাভূমিসহ পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা বিধান করার সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুসারে নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটিয়ে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।
২. পরিবেশ দূষণ রোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদনে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সকল পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, আদিবাসী এবং নারীসহ ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কার্যক্রম বাস্তবায়নে তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানকে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।
৪. সঠিক পরিকল্পনাসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে প্রণোদনা ও জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের উপর ‘কার্বন ট্যাক্স’ আরোপ করতে হবে।
৫. বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ¦ালনির ব্যবহার বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ¦ালানির প্রসারে একটি স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করে প্রশমন বিষয়ক কার্যক্রম স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে; এখাতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন ও অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৬. পরিবেশ অধিদপ্তরসহ পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনসহ আইন প্রয়োগে সকল প্রকার ভয়, চাপ ও আর্থিক প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে দূষণের জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে।
৭. বন, নদী, জলাশয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অবৈধ দখলের সাথে জড়িতদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৮. জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের ক্ষতি রোধ এবং জীবন-জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ নির্মীয়মান কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো স্থগিত করে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ কৌশলগত, সামাজিক ও পরিবেশগত সমীক্ষা সম্পাদন সাপেক্ষে অগ্রসর হতে হবে।
৯. টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ও প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সকল উন্নয়ন কার্যক্রমে পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।
১০. পরিবেশের জন্য টেকসই এবং প্রাত্যহিক জীবনধারণের জন্য সাশ্রয়ী ও বিকল্প ব্যবস্থা প্রবর্তনে পরিবেশ সুরক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমে নাগরিক অংশগ্রহণ এবং শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে হবে।
প্রেসবিজ্ঞপ্তি