বিয়ের আসরে হামলা ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১৪

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের সোনাপুর বেদেপল্লীতে রবিবার রাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে বহিরাগত শতাধিক উশৃঙ্খল বখাটে যুবক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বেদে সম্প্রদায়ের ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ১৪জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার ওই গ্রামের বাসিন্দা মুনসি মিয়া বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৩০ জনের নামোল্লেখ করে আরও ৮০-৯০জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। আহতদের মধ্যে জজ মিয়া (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হামলার ঘটনার পর খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানন কুমার দেবনাথ, সহকারী পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, ওসি অপারেশন সনজুর মোরশেদ, এসআই জালাল উদ্দিন, সোহেল রানা ও মিজানুর রহমান।
সোমবার দুপুরে সোনাপুর বেদেপল্লীতে সরেজমিনে গেলে বিয়ে বাড়িতে হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রুমা বেগম, কুহিনুর বিবি, হাজেরা বিবি, রুশনা বিবি, নেছারুন নেছা, বর মিঠুন মিয়া, সাগর মিয়া, জনি মিয়া ও হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, গত বৃহস্পতিবার বর মিঠুন মিয়া ও কনে মালেকা বেগমের বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ-গান পরিবেশিত হচ্ছিল। ওই রাতে একদল যুবক এসে নাচ-গানের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করতে চাইলে বিয়ে বাড়ির লোকজন এতে বাধা দেন। পরে যুবকরা চলে যায়। অনুরূপ শুক্রবার ও শনিবার রাতেও বিয়ের নাচ-গান চলে। কিন্তু রবিবার রাতে যখন গান ও নৃত্যানুষ্ঠান চলছিল, তখন রাত সাড়ে ১০টা। বিয়ে বাড়িতে নাচ-গান দেখতে আসেন চরপাড়া ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক গ্রামের শতাধিক যুবক। যুবকরা এসেই উশৃঙ্খলভাবে নাচতে শুরু করে। তখন তাদেরকে বসতে দেন বিয়ে বাড়ির লোকজন। এক পর্যায়ে মেয়েদের নাচ-গানের দৃশ্য নিজ নিজ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকলে বিয়ে বাড়ির লোকজন এ সময় বাধা দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এসব বখাটে যুবক। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হামলা চালিয়ে বিয়ে বাড়িতে ভাড়া করে আনা দুই শতাধিক চেয়ার, টেবিল, বাদ্যযন্ত্র, চারটি টিনের ঘরের বেড়া, দরজা, স্টিলের দরজা ও তালা, ঘরের আসবাবপত্র, আলমিরা, শোকেস ভাঙচোর, কনে মালেকা বেগমের মেয়েদের শ্লীলতা হানি ঘটাতে শুরু করে বখাটে যুবকেরা। এ হামলার ঘটনায় বর মিঠুন মিয়া (২২), বাবলু মিয়া (১৪), বরের মা কাজল বিবি (৫৫), আশরাফুল ইসলাম (২৩) সহ অন্তত: ৩০জন আহত হন।
সোনাপুর বেদেপল্লীর বাসিন্দা হাজী আবুল মিয়া বলেন,‘বিয়ের আসরে হামলা করে বখাটেরা অনেক মহিলার গায়ের স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। ভাঙচোর করেছে বাড়ি-ঘর ও আসবাবপত্র। মেয়েদের শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছে।’
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ১নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মমিন মিয়া জানান,‘ভাদেরটেক গ্রামের বখাটে যুবকের একটি দল প্রায় সময় সোনাপুর বেদেপল্লীতে এসে নানা ঘটনা ঘটায়। এদের নেতৃত্ব দেয় ভাদেরটেক গ্রামের আমির হোসেন ও আলম মিয়া। রবিবার রাতের ঘটনাও ঘটিয়েছে এসব নেশাখোর বখাটে যুবকেরা।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.মোবারক আলী বলেন,‘সোনাপুর বেদেপল্লীতে যে ঘটনা ঘটেছে এই ঘটনার সাথে খারাপ প্রকৃতির ছেলেরাই জড়িত ছিল। ভাদেরটেক দক্ষিণপাড়া এবং সোনাপুর গ্রামের পূর্বপাড়ারও কিছু ছেলে এ ঘটনার সাথে জড়িত। বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত ছাড়া ভাল ছেলেরা যাবে না। নাচ-গানের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা দুঃখজনক।’
ঘটনার পর গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ ব্যক্তি হলেন মো. তোতা মিয়া, মেরাজ মিয়া, আরশ আলী, আক্তার হোসেন, মো. শফিকুল, আপ্তাব উদ্দিন, মো. আবেদীন, আকবর হোসেন, মাজু মিয়া, মাহমদ আলী, আলী হোসেন, সুবাস মিয়া, তৈয়বুর রহমান ও মাসুক মিয়া। গ্রেফতারকৃতরা ভাদেরটেক, সাক্তারপাড়, দক্ষিণ আরপিননগরের বাসিন্দা।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল্লাহ বলেন,‘আমরা ঘটনাস্থল রাতেই পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটকও করেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে এবং ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।’