বীরাঙ্গনা বাসন্তী ধর এর পাশে জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার
বীরাঙ্গনা বাসন্তী ধর (৮০) এর চিকিৎসার খোঁজ খবর নিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। বীরাঙ্গনা বাসন্তী ধর বর্তমানে বার্ধ্যক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছেন। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় বীরাঙ্গনা বাসন্তী ধর দেখতে তার জেল রোডের বাসায় যান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। এসময় তিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।
এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীরাঙ্গনা বাসন্তী ধর কে লাল সবুজের চাদর ও শাড়ী উপহার প্রদান করা হয়। এসময় বীরাঙ্গণা বাসন্তী ধর আবেগে আপ্লুত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতিচারণ করেন।
বীরাঙ্গনা বাসন্তী ধর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য নার্সিং পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তাঁর ব্যবহৃত এ্যালুমিনিয়ামের ফাস্ট এইড বক্স ও চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং সনদপত্রসমূহ দেখান। যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সুনামগঞ্জের তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক কমল ভট্টাচার্য্য তাঁকে জেল রোডে বর্তমানে বাসস্থানের জমিসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেছিলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কাউসার আলম জানান, তিনি বীরঙ্গনা মাতা বাসন্তী ধরকে রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছিলেন। বীরঙ্গনা বাসন্তী ধর বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, ডিসেম্বর, ১১ ২০১৯ সালে ৩৩৪ নং ক্রমিকে গেজেটভুক্ত হন। তিনি তারঁ ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে বর্তমানে জেল রোডে ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গায় বন্দোবস্ত প্রাপ্ত হয়ে বসবাস করছেন। জেলা প্রশাসক জায়গার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদান করার আশ্বাস প্রদান করেন এবং তাঁর সুস্থতা কামনা করেন।
এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কাউসার আলম, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, স¤্রাট হোসেন, তাঁর ছেলেমেয়েরাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।