বৃক্ষমেলায় লাখ টাকা মূল্যের বনসাই

সোহানুর রহমান সোহান
একটি গাছের দাম চাওয়া হচ্ছে একলক্ষ টাকা। তাও দেড় থেকে দু’ফুট লম্বা গাছ। ৫৩ বছর বয়সি এতো ছোট একটি গাছের দাম শুনে অবাক হচ্ছেন বৃক্ষমেলায় আগত দর্শনার্থী ও ক্রেতারা। সুনামগঞ্জের সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৭ দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বৃক্ষমেলা। এই মেলায় দেখা মিলেছে লক্ষ টাকা দামের চায়না বট জাতীয় বনসাই গাছ। মেলায় শুধুমাত্র একটি নার্সারিতে একই মূলের দুটি বনসাই গাছ আনা হয়েছে। এবারের মেলায় সর্বোচ্চ মূল্যের গাছ এটি।
বনসাই হলো শক্ত কা- বিশিষ্ট গাছকে ট্রে কিংবা টবে রেখে নান্দনিক ভাবে ক্ষর্বাকৃতি করার শিল্প। এক কথায় বড় গাছের ক্ষুদ্র রূপ। যে গাছ যত ছোট এবং বয়স বেশি তার মূল্য ততো চড়া। বনসাই জাতীয় গাছের বৃদ্ধি হয় ধীরে ধীরে এবং বাঁচে বেশি বছর।
মেলায় আগত দর্শনার্থী মিজানুর রহমান বললেন, মেলায় ঘুরতে আসলাম। এসে দেখলাম একলক্ষ টাকা দামের গাছ। এটা অবিশ্বাস্য লাগছে। সুনামগঞ্জে এতো দামের গাছ দেখা যায় না।
সায়েম আহমেদ বললেন, বনসাই গৃহ সৌন্দর্যের জন্য ব্যবহৃত একটি গাছ। সুনামগঞ্জের বাইরে এই গাছ আরও অনেক চড়া মূল্যেও দেখেছি। সুনামগঞ্জে এই প্রথম দেখলাম। কালেকশনটাও ভালো।
শুধু বনসাই নয় মেলায় পাওয়া যাচ্ছে ফুল, ফল, কাঠ, ওষুধ ও গৃহ শোভাবর্ধনের বিভিন্ন জাতের সৌখিন গাছ। ফুল গাছগুলোতে লাল, নীল, হলুদ, সাদা রঙ সহ বিভিন্ন রঙের ফুল ফুটেছে। আর ফলগাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা ফল। এমন দৃশ্য মেলাপ্রাঙ্গণকে করেছে আরও আকর্ষিত ও সৌন্দর্যম-িত। যে গাছ দেখতে যত সুন্দর সে গাছের দামও বেশি। ২০ টাকা থেকে শুরু করে পাওয়া যাচ্ছে এক লক্ষ টাকার গাছ।
মো. তৈয়বুর রহমান বললেন, বৃক্ষ মেলা উপলক্ষে গাছ দেখা, গাছ কেনার জন্য এসেছি। ছেলে স্কুলে বন্ধুদের কাছ থেকে মেলার কথা শুনে আসছে গাছ কিনবে। আজকে ছেলেকে সাথে নিয়ে ফলজ গাছ কিনলাম। আগামীকাল আরও কিনবো।
অনিকা নার্সারি মালিক রাজু আহমেদ বললেন, ছোট-বড় অনেক রকমের গাছ নিয়ে মেলায় এসেছি। সবচেয়ে আকর্ষণ হচ্ছে বনসাই গাছ। এটার দাম ১ লক্ষ টাকা। তবে বাংলাদেশে ১৫ লক্ষ থেকে ৭০ লক্ষ টাকার বনসাই পাওয়া যায়। বনসাই তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগে তাই এতো মূল্য। বিক্রি করতে পারলে করলাম, না করলেও সমস্যা নাই। মূলত সুনামগঞ্জের মানুষকে বনসাইয়ের সাথে পরিচিত করতে এই গাছ আনা।
সবুজ নার্সারির সুমন মিয়া বললেন, মেলায় যে রকম ক্রয়-বিক্রয় আশা করে বিভিন্ন জাতের গাছ এনেছি সেরকম বিক্রি হচ্ছে না। তবে আমরা হতাশ নই। আরও কয়েকদিন মেলা আছে আশা করি পরবর্তী দিনগুলো ভালো যাবে।
‘বৃক্ষপ্রাণে প্রকৃতি-প্রতিবেশ, আগামী প্রজন্মের টেকসই বাংলাদেশ’ স্লোগানে ১৭ আগস্ট জেলা বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষ রোপণ অভিযান উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। মেলা চলবে আগামী ২৩ আগস্ট প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত।