বৃদ্ধ মায়ের ভরনপোষণ না দেয়ায় ৯ সন্তানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

জগন্নাথপুর অফিস
সন্তানের অযতেœ অবহেলায় কষ্টে কাটছিল ৭৫ বছরের বৃদ্ধা কাঞ্চন বিবির। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানরা তাঁদের মায়ের ভরনপোষণ করছিলেন না। ছেলে-মেয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে ৯ সন্তানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথপুরে। অভিযোগে প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার থানা পুলিশ মা ও সন্তানদের ডেকে এনে বিষয়টির সমঝোতা করে দেন।
জানা গেছে, উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া আশিঘর গ্রামের মৃত. রুস্তম আলীর স্ত্রী কাঞ্চন বিবির ৭ ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। এরমধ্যে ৫ ছেলে প্রবাসী ও দুই মেয়ে বিবাহিত। বাড়িতে দুই ছেলে বসবাস করছেন। স্বামী রুস্তম উল্যার মৃত্যুর পর স্ত্রীর নামে রেখে যাওয়া ৪০ শতক জায়গা দুই সন্তান ইতালি প্রবাসী তৌরিছ মিয়া ও বাড়িতে থাকা ফরুক মিয়া কৌশলে তাদের নামে রেজিষ্ট্রি করে নেয়। এ নিয়ে অপর সন্তানরাও মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর ভরনপোষণের খরচ বন্ধ করে দেয়। এঘটনায় মঙ্গলবার জগন্নাথপুর থানায় মা ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় এক বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয়পক্ষের ভুলবুঝাবুঝির অবসান হয়।
কাঞ্চন বিবি জানান, ছেলে-মেয়েদের অযতœ অবহেলায় প্রায় একা হয়ে পড়ি। সন্তানরা তাঁর ভরণপোষণ বন্ধ করে তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়। ছেলে মেয়ের নিরুপায় হয়ে আমি পুলিশের শরণাপন্ন হলে পুলিশ সন্তানের ডেকে এনে তার ভরণপোষণ দিতে অনুরোধ করায় সন্তানরা ভরনপোষণ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
ওই নারীর ছেলে ফারুক বলেন, মায়ের সাথে জায়গা জমি নিয়ে আমাদের মানসিক দূরত্ব ও ভুলবুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এখন ভুল বুঝাবুঝির সমাধান হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মায়ের ভরণপোষণ দিচ্ছে না সন্তানরা। দু:খ কষ্টে দিন কাটছিল বৃদ্ধা মায়ের। এ খবর শুনে মর্মাহত হয়ে ছেলে মেয়েদের ডেকে এনে বুঝানোর পর তাঁরা মায়ের ভরণপোষণ দিতে সম্মত হয়। এছাড়াও মায়ের কাছ থেকে কৌশলে রেজিষ্ট্রি করে নেওয়া জায়গা দুই ভাই মায়ের নামে ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।